আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কৃষকের প্রণোদনা গেল অফিসারের পকেটে

অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম। ছবি : সংগৃহীত
অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম। ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গরিব কৃষকের প্রণোদনার টাকা গেল কৃষি অফিসারের পকেটে। সে টাকা অফিসারসহ কয়েকজন মিলে আত্মসাৎ করেছেন। গত আগস্টের বন্যায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এরপর কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে প্রণোদনা হিসেবে প্রত্যেককে নগদ ১ হাজার টাকা ও বিনামূল্যে সার-বীজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে প্রায় ২৫০ কৃষককে সে টাকা না দিয়ে মেরে দিয়েছেন কৃষি অফিসারসহ অন্যরা। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেও আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে সরকারি এ উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।

গত বছরের আগস্টে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে আখাউড়ায় আকস্মিক বন্যায় উপজেলার সব ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে নভেম্বরে সরকার ৫ হাজার ৬০০ কৃষকের জন্য প্রণোদনার মাধ্যমে বিনামূল্যে সার-বীজ ও নগদ ১ হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেয়।

এর মধ্যে ৪ হাজার কৃষককে নগদ ১ হাজার টাকা, ৫ কেজি বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি এবং এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। আর ১ হাজার ৬০০ কৃষককে সবজির বীজ বিতরণ করা হয়, যা গত ডিসেম্বর প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম সমাপ্ত করে কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানানো হয়েছে, সব কৃষক নগদ ১ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে উপজেলার মনিয়ন্দ ও মোগড়া ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ জনের বিকাশ বা নগদে কোনো টাকা পাঠানো হয়নি। কৃষকদের প্রণোদনার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম ও অফিসের অন্যরা মিলে আত্মসাৎ করেছেন।

উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের কৃষক হামিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সব সময় শুধু নাম নেয়। কোনো সময় টাকা পাই নাই। গত বন্যায় আমার তিন বিঘা জমির ফসল নষ্ট হইয়াছে। কৃষি অফিসের লোকজন আইসা দেইখা গেছে। নামও লেইখা নিছে। এই পর্যন্ত কোনো টাকাপয়সা পাইলাম না।’

ওই গ্রামের কৃষানি রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার বিকাশে কোনো টাকা আসে নাই।’

উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বড়লৌহঘর গ্রামের কৃষানি ইয়াছমিন বেগম বলেন, ‘বন্যার সময় কৃষি অফিসের লোকজন আইসা নাম-ঠিকানা লেইখা নিছে। আমার বিকাশে কেউ টাকা পাঠায়নি।’

মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের কৃষানি রুমানা আক্তার বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শুধু সার-বীজ পেয়েছি; কিন্তু টাকা পাইনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি অফিসার তানিয়া তাবাসসুম কালবেলাকে বলেন, সব কৃষকের বিকাশ বা নগদে প্রণোদনার টাকা পাঠানো হয়েছে। সবাই টাকা পেয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত সাহা কালবেলাকে বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। কোনো অভিযোগও পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার আইসিসিতে বড় দায়িত্ব পেলেন তামিম ইকবাল

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের প্রেরণা: রাজশাহীর ডিসি

ইরানকে ভদ্র আচরণ করার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

দুই সপ্তাহে ২৫ বাড়ি বিলীন, তিস্তার কবলে সর্বস্বান্ত নদীপাড়ের মানুষ

দেশে ফিরেছেন স্পিকার

ফাইনালে উঠেই কড়া জবাব দিলেন লিওনেল মেসি!

মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর আ.লীগ নেতাদের হামলার অভিযোগ

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ২

সরকার জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধ: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

গাজীপুরে ৭ তলা ভবনে আগুন, ৫ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

১০

সুনামগঞ্জে কমছে নদ-নদীর পানি

১১

আর্জেন্টিনার জয় উদযাপনের ভিডিও করতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু

১২

গোল করে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গ, কী ভুল ছিল ইংল্যান্ডের

১৩

মেসিদের অলআউট অ্যাটাকে মুগ্ধ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি

১৪

পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারাটা অবিশ্বাস্য: মেসি

১৫

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী / জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশকে সমৃদ্ধ করার চেতনা হিসেবে কাজ করবে

১৬

চার দশকের ব্যবসায়িক পথচলায় শওকত আলী চৌধুরী

১৭

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

১৮

বিশ্বকাপের যে অনন্য কীর্তি এখন শুধুই মেসির

১৯

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

২০
X