কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৫, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৫, ০১:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শোলাকিয়ায় ৬ লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদ জামাত

শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত। ছবি : কালবেলা
শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত। ছবি : কালবেলা

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে ১৯৮ তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ নামাজে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। জামাত শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টায় জামাত যখন শুরু হয় তখন জনসমুদ্র হয়ে যায় আশপাশের সড়ক ও অলিগলিসহ আবাসিক এলাকা। লাখো কণ্ঠে আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, ৬ লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে এবার শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক ঈদ জামাত হয়েছে।

ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের মানুষের সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়। এ ছাড়া ইসরায়েলের আগ্রাসন থেকে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের হেফাজত কামনাসহ মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠের ভেতরে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। এ ছাড়াও ৬টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে মাঠের মুসল্লিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষষ করে আইশৃঙ্খলা বাহিনী।

২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার পর থেকে শোলাকিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত ও কঠোর করা হয়। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। নামাজের সময় এগারশ পুলিশ সদস্য, ৫ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব সদস্য ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও আনসার সদস্যরা মাঠ ও মাঠের বাইরে মোতায়েন ছিল। সাদা পোশাকে নজরদারি করেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। ছিল ফায়ার ব্রিগেড, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম। ছিল বোম ডিসপোজাল ইউনিট। প্রতিটি মানুষ যখন ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেছে তখন পুলিশের চারটি স্থাপনা পেরিয়ে আসতে হয়। সেটি চেকপোস্ট হোক বা পিকেট হোক। আবার কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে ছয়টি স্থাপনা পেরিয়ে ময়দানে আসতে হয়েছে।

দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি ট্রেনের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) নামের ট্রেনটি ভৈরব স্টেশন থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে আসে। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) নামের অপর ট্রেনটি সকাল ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসে। নামাজ শেষে দুপুর ১২টায় এসব ট্রেন কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ফিরে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদের জামাতে কেবল জায়নামাজ ও মোবাইল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে মুসল্লিরা।

এর আগে ঐহিত্য অনুসারে জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী শটগানের তিনটি গুলি ছোড়েন। পরে জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে আরও দুটি এবং পাঁচ মিনিট আগে আরও একটি গুলি ছোড়া হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হলফনামায় গরমিল নিয়ে সারজিসের ব্যাখ্যা

আইইডিসিআর / নিপাহ ভাইরাস ৩৫ জেলায়, আক্রান্ত হলেই মৃত্যু

নামাজের সময় চোখ খোলা নাকি বন্ধ রাখতে হয়, জানুন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টার বড় চালান বাংলাদেশে

যে ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনোই কবুল হয় না

থানায় সালিশ করতে এসে আটক আ.লীগ নেতা

জকসুর ফলাফলে নাটকীয় মোড়, ফের ভিপিতে এগিয়ে শিবির

সহকর্মীদের প্রতিবন্ধী সন্তানের শিক্ষা সহায়তায় স্কলারশিপ চালু করল ব্র্যাক ব্যাংক

ট্রেনিং ও বিদেশি বৃত্তি নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা

আসামিদের নামাজ পড়তে হাজতখানায় জায়নামাজ দিলেন ঢাকার সিজিএম

১০

সিরাজগঞ্জে বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী

১১

চবি ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.৪ শতাংশ

১২

এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

১৩

দৃষ্টিহীনদের পথ দেখাচ্ছে রোবট কুকুর

১৪

মাদুরোর বিরুদ্ধে নিজের নাচ নকলের অভিযোগ করলেন ট্রাম্প

১৫

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

১৬

কারাকাসের ঘটনার পর আতঙ্কে তেহরান

১৭

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি

১৮

ঢাবি অধ্যাপক আতাউর রহমান মারা গেছেন

১৯

জকসুর এক কেন্দ্রে ভোট পাননি শিবিরের জিএস-এজিএস প্রার্থী

২০
X