সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‌‌‍‘জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন না হলে পুনরায় স্বৈরাচারের উত্থান ঘটতে পারে’

আপ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সাতক্ষীরার নাগরিকদের ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা। ছবি : কালবেলা
আপ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সাতক্ষীরার নাগরিকদের ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা। ছবি : কালবেলা

দেশে স্থায়ী গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন না হলে দেশে পুনরায় স্বৈরাচারের উত্থান ঘটতে পারে, যা হবে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) উদ্যোগে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সাতক্ষীরার নাগরিকদের ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি জানান।

আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য আসমা উল হুসনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশে আর কোনো স্বৈরাচারীর যেন জন্ম না হয়, তা নিশ্চিত করতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এ ঘোষণাপত্রই দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও কাঙ্ক্ষিত সিস্টেম পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।

আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য আসমা উল হুসনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি হত্যা, গুম ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে নির্যাতন করে ক্ষমতা ধরে রাখার লোভ রুখে দিয়েছে জুলাই আন্দোলন। অবিলম্বে শেখ হাসিনাসহ ওই সরকারের সকল আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ‘শহীদদের পরিবারগুলো বিচার দেখেই শান্তি পাবে। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে তারা বলেন, ‘এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর ছিল না, এটি ছিল ভ্যানচালক থেকে শুরু করে দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের মুক্তির আন্দোলন। জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই সাধারণ মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন চাই না, আমরা চাই সিস্টেমের পরিবর্তন।’

বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,‘আর কোনো টালবাহানা নয়। সংবিধান পরিবর্তন করে হলেও জুলাই ঘোষণাপত্রকে আইনে পরিণত করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তবে এটি হবে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারি। দেশের মেধাবীরা যেন দেশ ছেড়ে চলে না যায় এবং আধিপত্যবাদের রাজনীতির অবসান ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই ঘোষণাপত্র জরুরি।’

আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আপ বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক নাঈদ আহমাদ।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সহকারী সেক্রেটারি ওমর ফারুক, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক আবদুল কাদের, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসানুর রহমান হাসান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম বাপ্পি, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ইমরান হোসেন, বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মাকছুদুর রহমান জুনায়েদ এবং শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে আরিফুজ্জামান প্রমুখ।

বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ছিল না, এটি ছিল গণমানুষের মুক্তির সংগ্রাম। তারা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের বিচার দাবি করে বলেন, শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। দ্রুত জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের দাবি করেন।

কালবেলা/এসওআর/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাচোলে টিসিবির গুদামে আগুন, নেভাতে গিয়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

মসজিদে নামাজরত ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা: এক মাস পর নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার বড় ভাই

প্রবাসীরা চাইলে বাড়ি পাহারায় মিলবে আনসার সদস্য: সিলেটের ডিসি

সিলেটে অভিযানে তিন হাসপাতালে জরিমানা, একটি সিলগালা

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেফতার

কাহারোলে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জনের জেল-জরিমানা

জোয়ার-বর্ষণে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চল, বড় ক্ষতির মুখে কৃষি ও মৎস্য খাত

গাজীপুরে আবাসিক হোটেলের কক্ষে নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সঙ্গী পলাতক

গায়ে হলুদের স্টেজে আলোকসজ্জার কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

১০

আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

১১

জ্বালানির দাম বাড়ার গুজব, মধ্যরাতে ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়

১২

মসজিদের ভেতরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম

১৩

৯ বছর ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী, এবার সেই ব্রাজিলিয়ান তারকাই মেসির সতীর্থ

১৪

পর্দা উঠছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের, উদ্বোধন করবেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা

১৫

ডিএমপির দুই থানায় নতুন ওসি

১৬

সেই ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

১৭

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়’

১৮

ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

১৯

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে: ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০
X