বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নাটোরে সেচ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সেচের জন্য পানি নেওয়া হচ্ছে। ছবি : কালবেলা
সেচের জন্য পানি নেওয়া হচ্ছে। ছবি : কালবেলা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বাঁশবাড়িয়া সেচ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের শেয়ারহোল্ডার এবং প্রকল্প এলাকার সাধারণ কৃষকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৩-৬৪ সালে ২ হাজার ৩০০ একর জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে স্থাপিত হয় ‘বাঁশবাড়িয়া হালকা পাম্প সেচ প্রকল্প’। প্রকল্পের শুরুতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩০০ একর জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে ১৯৯৩ সালে প্রকল্প এলাকার সাধারণ কৃষকদের শেয়ারহোল্ডার করে, শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার শর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি হস্তান্তর করে। ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের মাধ্যমে তিন বছর পরপর কমিটি গঠনের কথা থাকলেও হস্তান্তরের পর থেকে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছে একই কমিটি। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিটি গঠন না হওয়ায় ও কমিটির জবাবদিহি না থাকার কারণে নানা অনিয়ম দুর্নীতির ফলে সরকারের এ প্রকল্প সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকল্প এলাকার হাজার হাজার কৃষক। এক সময় এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে ২ হাজার ৩০০ একর জমিতে ধান চাষ হলেও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের অসহনীয় দুর্নীতির ফলে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষক। বাকি যে সব কৃষক ধান চাষ করেন পানির অভাবে তাদেরও লোকসানের হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ১৯৯৩ সাল থেকে অদ্যাবধি সেচকার্যে ব্যবহৃত পাম্প, লোহার পাইপ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও প্রকল্প এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের রোপণকৃত কয়েক হাজার গাছসহ আনুমানিক ৩ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করেছে।

প্রকল্প এলাকার কৈচরপাড়া গ্রামের কৃষক ইনছার আলী বলেন, আগে সম্পূর্ণ প্রকল্প এলাকায় পানি সরবরাহ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় আমাদের প্রতি বছর ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়।

কৃষক বাবুল আক্তার বলেন, সেচ প্রকল্পটি কমিটির হাতে হস্তান্তরের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির কারণে আমরা পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। শুধু কমিটির নিজস্ব লোকজনকে পানি সরবরাহ করা হয়। আমরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও পানি পাচ্ছি না।

সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, প্রকল্পটির বর্তমান কমিটি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পদ আকড়ে ধরে আছে। তারা রাজনৈতিক ও বংশীয় প্রভাব বিস্তার করে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করে না। দুর্নীতি করে প্রকল্পটি অচল করে ফেলেছে।

এ বিষয়ে সেচ প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, তিন বছর পরপর নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাদের কিছু অবহিত করেনি। এ কারনে নির্বাচন হয়নি।

নাটোর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খালেদা জিয়া কর্মের জন্য অমর হয়ে থাকবেন : দুলু

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

জীবন বদলে দিতে পারে এমন ৫ অভ্যাস

সাতসকালে বোমা বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল একজনের

কেমন থাকবে আজ ঢাকার আবহাওয়া

রাজশাহীর ৬ আসনে হলফনামা / ‘ধার ও দানের’ টাকায় নির্বাচন করবেন ৮ প্রার্থী

মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখার ৪ কার্যকর অভ্যাস

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

আবারও বিশ্বসেরা আফগানিস্তানের জাফরান

আজ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

১০

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত

১১

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে তেঁতুলিয়া

১২

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১৩

আকিজ গ্রুপে বড় নিয়োগ

১৪

বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

১৫

৮ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৬

মুরাদনগরে ঝাড়ু মিছিল

১৭

নওগাঁয় বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

১৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের নাম পরিবর্তন

১৯

সাবেক ছাত্রদল নেতার ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ

২০
X