বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে নাকাল গ্রাহকরা

নাটোর বাগাতিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ। ছবি : কালবেলা
নাটোর বাগাতিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ। ছবি : কালবেলা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ বিলে চরম অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিল দেখে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন গ্রাহকরা।

জানা যায়, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের জুলাই মাসে বিদ্যুতের মিটার রিডিং আসে ১১৫ ইউনিট। যার মোট বিল এসেছিল ৭০৮ টাকা। কিন্তু আগস্ট মাসে এক লাফে মিটার রিডিং ৫৭০ ইউনিট যার মোট বিল ৫ হাজার ৮৮৯ টাকা। হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক বিল দেখে হতবাক তিনি। আমজাদ হোসেন বলেন, হঠাৎ এত বেশি বিলের বিষয়ে অফিসে বললে তারা বলেন বিদ্যুৎ খরচ বেশি হওয়ার কারণে বিল বেশি আসছে।

শুধু আমজাদ হোসেন নন, পল্লী বিদ্যুৎ-এর এমন অস্বাভাবিক বিলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপজেলার অনেক গ্রাহক। ব্যবহৃত ইউনিট না দেখেই অতিরিক্ত বিল করা, আবার বিল নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়া গ্রামের আরেক গ্রাহক আবুল হোসেন। তার জুলাই মাসে ১১৫ ইউনিট রিডিং এসেছে যার মোট বিল ৭০৮ টাকা। কিন্তু আগস্ট মাসে এক লাফে মিটার রিডিং হয়ে যায় ৪৬০ ইউনিট, যার মোট বিল ৪ হাজার ৪ ৮৬ টাকা। নিয়মিত মিটার রিডিং না দেখেই বিল করার অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর এলাকার গ্রাহক ইসমাইল হোসেন। তার জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছিল ২ হাজার ৯৪৭ টাকা। আগস্ট মাসে বিল এসেছে ৪ হাজার ১ শত ৬৮ টাকা। তিনি বলেন, বিদ্যুতের এরকম বিল এর আগে কখনো আসেনি। তার এলাকায় বেশিরভাগ বাড়িতেই বিল বেশি আসার কথা জানান তিনি।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অধীন বাগাতিপাড়া উপজেলা সাব-জোনাল এর বিলিং সুপারভাইজার জিন্নাতারা বলেন, প্রায় দিনই দুএকজন করে অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করতে আসছেন। কিন্তু পরবর্তীতে মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের রিডিংয়ে অমিল পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় দুইটি সাব-জোনাল অফিসের অধীনে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৫৬ হাজারের বেশি । এর মধ্যে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীন বাগাতিপাড়া সাব-জোনাল অফিসের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩১ হাজার। এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক মিটার রিডিংয়ের দায়িত্বে মিটার রিডার আছেন মাত্র ১৪ জন। যারা সকলেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করেন। যা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

প্রতিদিনই নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাগাতিপাড়া সাব-জোনাল অফিসে অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা। এতে করে একদিকে বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তারা যেমন বিপাকে পড়েছেন তেমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহক।

বাগাতিপাড়া সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকরা বেশি বিদ্যুতের ব্যবহার করছেন বলেই বিল বেশি আসছে। তবে, কোনো গ্রাহক যদি মনে করেন মিটারে সমস্যা হয়েছে, আমাদের তা জানালে আমরা মিটার পরীক্ষা করে দেখব। মিটারে সমস্যা ধরা পড়লে বিনামূল্যে মিটার পরিবর্তনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু অভিযোগ আমাদের কাছেও আসছে এবং আমরা সেটি ক্ষতিয়ে দেখছি। যদি কারও মিটার রিডিংয়ে ভুল হয় তাহলে পরবর্তী বিলে তা সমন্বয় করে দেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

যশোরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিবেন ১২৯ কারাবন্দি

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

তারেক রহমানের বরিশাল সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

ট্যুর ভাতাসহ চাকরি দিচ্ছে আকিজ বশির গ্রুপ

২৪ ঘণ্টা গ্যাসের চাপ কম থাকবে যেসব এলাকায় 

মুসলিম ব্রাদারহুড / ইইউকে চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স

আজ ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১০

ভোট চুরি ঠেকাতে যে বার্তা দিলেন রুমিন ফারহানা

১১

২৪ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১২

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৩

বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে : সাকি

১৪

ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রাণ গেল মায়ের, হাসপাতালে বাবা

১৫

হাত-পায়ের পর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার

১৬

জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনায় কালা বাচ্চু গ্রেপ্তার

১৭

এমন কাজ করিনি যে সেফ এক্সিট নিতে হবে : প্রেস সচিব

১৮

কেন্দ্র দখলের চিন্তা করলে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন : হাসনাত

১৯

সীমান্ত থেকে ভারতীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

২০
X