মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জাটকায় সয়লাব মৎস্যবন্দর, অভিযান সড়কে

পটুয়াখালীর বাজারে জাটকা বিক্রি। ছবি : কালবেলা
পটুয়াখালীর বাজারে জাটকা বিক্রি। ছবি : কালবেলা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুরে জাটকা ইলিশে সয়লাব বাজার। প্রতিদিন গড়ে অর্ধকোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় এখানে। অথচ সরকার ঘোষিত ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত জাটকা শিকারে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও তা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের প্রায় সব আড়তে জাটকা ইলিশের স্তূপ। সকাল থেকে চলছে জাটকা ক্রয়-বিক্রয়। কিন্তু প্রশাসনের উপস্থিতি শুধু মহাসড়ক পর্যন্ত সীমিত।

গত ৫ দিনে কুয়াকাটা নৌপুলিশ, নিজামপুর কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসন কয়েকটি অভিযানে কিছু জাটকা জব্দ করলেও সেগুলো মূলত পরিবহন ও মহাসড়ককেন্দ্রিক ছিল। পরে জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আড়ত শ্রমিক জানান, প্রতিদিন বন্দরে শত শত মণ জাটকা বিক্রি হয়। কোস্টগার্ড শুধু ক্যাম্পের সামনে মহাসড়কে দু-একটা ট্রাক থামায়, কিন্তু বন্দরের ভেতরে ঢোকে না।

আলীপুর বন্দর এলাকার জেলে শাহে আলম (ছদ্মনাম) বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে জাটকা ধরি। সাগরে এখন বড় ইলিশ নেই, জাল ফেললেই ছোট জাটকা আসে। এগুলো না ধরলে ঘরের চুলা জ্বালাব কীভাবে?

আরেক জেলে খবির ঘরামি বলেন, সরকার যদি বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করত, আমরা জাটকা ধরতাম না। কিন্তু এখন বাচ্চাদের খাবার জোগাতে গিয়ে জাটকাই ভরসা।

এদিকে স্থানীয় এক চালানি আড়তদার কাওসার বলেন, জাটকা ধরা বা বিক্রির দায় শুধু জেলেদের নয়। বাজারে চাহিদা আছে, ক্রেতারা কিনতে আসে। প্রশাসন অভিযান করলেও সব জায়গা কভার করা সম্ভব হয় না।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন বলেন, আমরা সড়কে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি। আমাদের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ৫ দিনের ট্রেনিংয়ে ছিলেন তাই বন্দরে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। আগামীকাল থেকে আমরা বন্দরগুলোতে অভিযান চালাব।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, সম্প্রতি কলাপাড়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি জাটকাবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছি। জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালন করল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস

হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

আরেক দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

যে কারণে রোগী প্রতিদিন হাসে, কিন্তু আনন্দ পায় না

ডলারকে আমি চিনি : রামিসার বাবা

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে মরক্কো: মামদানি

মালদ্বীপ-বাংলাদেশ ম্যাচে উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তে সংঘর্ষ ১-১ গোলে ড্র

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হলেন সিসিক প্রশাসক

নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি অবশ্যই মেনে নিতে হবে : ট্রাম্প

দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার

১০

শয়তানের মূল ঘাঁটি তেহরানে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১১

ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা

১২

৪,৬৯০ অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি, গ্রেপ্তার আরও ৭ হাজার

১৩

ইসরায়েলের হামলার পর এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলো ইরান

১৪

সৌদি আরব / প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা

১৫

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

১৬

গভীর রাতে ফেলে যাওয়া কাফনের কাপড়ে আরবি হরফ ঘিরে রহস্য

১৭

বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে বড় হোঁচট খেল ব্রাজিল

১৮

রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ জন আটক

১৯

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ, পুলিশ বলছে আলামত নেই

২০
X