রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আদিবাসীদের নবান্ন উৎসব

রাজশাহীতে ওয়ানগালা ও লবান উৎসব উদযাপন

নবান্ন উৎসবে আদিবাসীরা। ছবি : কালবেলা
নবান্ন উৎসবে আদিবাসীরা। ছবি : কালবেলা

রাজশাহীতে আদিবাসী গারো, সাঁওতাল, পাহাড়ি, মাহালি ও ওঁরাও সম্প্রদায়ের ‘ওয়ানগালা’ এবং ‘লবান’ উৎসব উদযাপিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও নতুন ফসল কাটার পর শস্য দেবতা ‘মিসি সালজং’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির জন্য এ উৎসব পালন করা হয়।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর বাগানপাড়ায় উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গির্জা প্রাঙ্গণে দেবতাদের পূজার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়।

পরে ধর্মীয় আচার ‘আমুয়া’ ও ‘রুগালা’ পালিত হয় এবং শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। গারো শিল্পীরা নিজস্ব ভাষায় গান পরিবেশন করেন এবং ‘জুম নাচ’ পরিবেশন করেন।

আলোচনা পর্বে রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বহু জাতি-ভাষা ও সংস্কৃতির দেশ। এমন উৎসব জাতিগত সম্প্রীতি রক্ষায় সহায়ক।’ তিনি বলেন, ‘ওয়ানগালা ও লবান উৎসব আমাদের একতা ও সমন্বয়কে প্রকাশ করে।’

কারিতাস বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক ড. আরোক টপ্য বলেন, ‘এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, আদিবাসী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

বিশেষ অতিথি ছিলেন ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডা, নানকিং গ্রুপের এহসানুল হুদা, পার্লার অ্যাসোসিয়েশনের রুকসানা হুদা ও গির্জা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফ্রান্সিস সরেন। তারা উৎসবের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।

আদিবাসীদের ভাষায়, ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’ উৎসব জুম চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন ফসল তোলার পর গ্রামপ্রধান (নকমা) উৎসবের তারিখ নির্ধারণ করেন। রাজশাহীতে গারোরা এক যুগের বেশি সময় ধরে এই উৎসব পালন করে আসছে। এদিন গির্জার মাঠে বহু আদিবাসী জড়ো হন, একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করেন।

উৎসব কমিটির নকমা লোটাস চিসিম বলেন, ‘ওয়ানগালা ও লবান শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রক্ষার মাধ্যম।’ এই আয়োজন সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে সহাবস্থানের বার্তা দেয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি খুব কাছে : ট্রাম্প

দুই ভূমি অফিসে হঠাৎ হাজির প্রতিমন্ত্রী, দেখতে পেলেন নানা অনিয়ম

৪৮ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

বড় ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

জাবিতে নতুন দুই উপ-উপাচার্যের যোগদান

হামে শিশু মৃত্যু / ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালন করল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস

হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

আরেক দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

যে কারণে রোগী প্রতিদিন হাসে, কিন্তু আনন্দ পায় না

১০

ডলারকে আমি চিনি : রামিসার বাবা

১১

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে মরক্কো: মামদানি

১২

মালদ্বীপ-বাংলাদেশ ম্যাচে উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তে সংঘর্ষ ১-১ গোলে ড্র

১৩

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হলেন সিসিক প্রশাসক

১৪

নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি অবশ্যই মেনে নিতে হবে : ট্রাম্প

১৫

দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার

১৬

শয়তানের মূল ঘাঁটি তেহরানে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১৭

ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা

১৮

৪,৬৯০ অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি, গ্রেপ্তার আরও ৭ হাজার

১৯

ইসরায়েলের হামলার পর এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলো ইরান

২০
X