স্বপন চন্দ্র দাস, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সেতুতে চলে না যান, কৃষক শুকায় খড় আর ধান

সেতুর ওপর চলে না যানবাহন। ছবি : কালবেলা
সেতুর ওপর চলে না যানবাহন। ছবি : কালবেলা

প্রায় আড়াই বছর আগে ছোট্ট খালের ওপর ৩২ ও ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যের পাশাপাশি দুটি সেতু নির্মিত হয়েছে। যানবাহন চলাচল না করলেও সেতু দুটির ওপর চলছে গোবরের ঘুঁটে, ধান ও খড় শুকানোর কাজ।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে ছোট্ট খালটির ওপর একশ মিটার এলাকার মধ্যে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়। তবে রাস্তা না থাকায় এই সেতু দুটিতে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। যে কারণে সেতু দুটি ধান, খড় আর ঘুঁটে শুকানোর জন্য ব্যবহার করে স্থানীয়রা।

এদিকে রাস্তা না থাকায় চরম দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে দুই ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে।

সরেজমিনে জানা যায়, কুড়ালিয়া দিয়ার-একডালা প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়কটি দিয়ে সদর উপজেলার রতনকান্দি ও কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করে। তিন বছর আগে রাস্তাটির মাঝখানের একটি অংশ ভেঙে খালের মধ্যে চলে গেছে।

এদিকে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে এই রাস্তায় ছোট খালের ওপর ২০২৩ সালে দুটি সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু সেতু নির্মাণের আড়াই বছরেও ভেঙে পড়া রাস্তাটি নতুন করে নির্মাণ হয়নি। এতে মানুষের চলাচলের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষিপণ্য সরবরাহে বিড়ম্বনায় পড়ছে কৃষক। ভোগান্তি নিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়ছে কৃষক। আর নানা বিড়ম্বনা নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আলী, বেবি খাতুন, আমিনুল ইসলাম, জহুরা খাতুন বলেন, এখানে দুটি সেতু হলেও রাস্তা না থাকায় আমাদের গাড়িতে ওঠার ভাগ্য হয় না। ২৫ বছর আগে বন্যায় ভেঙে গেছে রাস্তা। এরপর আর রাস্তা হয় না। অফিসার আসে প্রত্যেক বছরই- মাপামাপি করে কিন্তু রাস্তা হয় না। দুটি ব্রিজ হয়েছে কিন্তু রাস্তা নেই। গুরুতর অসুস্থ হলে সেই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হয় আমাদের।

হাবিবুর রহমানসহ একাধিক কৃষক বলেন, রাস্তা না থাকায় সার-বীজ নিয়ে আসা যেমন কষ্ট হয় তেমনি আমাদের ফসল ঠিকমতো হাটে তুলতে পারি না। ফসলের ন্যায্যমূল্য পাই না। আমাদের অনেক রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। এ জন্য সময় আর টাকা বেশি লাগে।

শিহাব বাবু, সাগর আলীসহ কয়েক কলেজছাত্র বলেন, এখান থেকে স্কুল-কলেজে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। রাস্তা না থাকায় অনেকে সময়মতো কলেজে যেতে পারে না। বন্যা বা বৃষ্টির মধ্যে তো যাওয়ার কোনো উপায়ই থাকে না।

শতবর্ষী বৃদ্ধ হযরত আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কুড়ালিয়া, চিলগাছা, একডালা, কুড়িপাড়া ও মহিষামুরা গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে। এখান দিয়ে রতনকান্দি হাটে যেতে পারি না। অনেক ঘুরে ঘুরে যেতে হয়।

কৃষক মো. ভুট্ট আলী বলেন, এখানে গাড়ি চলে না। মানুষজন যাতায়াত করে না। এ জন্য আমরা ঘুঁটে, ধান শুকাচ্ছি।

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার দৈর্ঘ্যের কুড়ালিয়া-একডালা সড়কটির মাঝখানে ৭শ মিটার অংশ তিন বছর আগে ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে গেছে। ফলে ওই এলাকায় চলাচলের জন্য সরকারি কোনো রাস্তা নেই। রাস্তাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি- ওনারা যদি সম্মিলিতভাবে জায়গা বের করে দেন তাহলে এই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশের আগে নির্দিষ্ট কোনো দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল যে ৬ দেশ

মা-শিশুর পাশাপাশি দাফন, কারা ফটকে থেমে রইল স্বামীর শেষ দেখা

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে হাইকমিশনের বর্ণাঢ্য আয়োজন

সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা ইস্যুতে যা বললেন আসিফ

কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও থাকছেন সাকিব, যা জানাল বিসিবি

বুধবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ / অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়নের জন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করুন

১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হলো লেবার পার্টি

আবারও পেছাল তারেক রহমানের বরিশাল সফরের তারিখ

মানুষের ভাগ্য গড়তে ১০ দলীয় ঐক্য নির্বাচন করছে : মামুনুল হক

১০

সাতক্ষীরায় সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও ক্যামেরা ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও আলটিমেটাম

১১

এই দেশের ভূমিপুত্ররাই দেশ শাসন করবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

১২

‘নিজ স্বার্থে ওসমান হাদিকে বিক্রি করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’

১৩

আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে নিহত ৬১

১৪

ইউনিভার্সেল মেডিকেলে নবজাতক ও পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ারের বৈজ্ঞানিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৫

সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি

১৬

ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে জামায়াত নেতাদের অংশগ্রহণ

১৭

দিনাজপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জামায়াতে যোগদান

১৮

হাজারো মানুষের ভিড়ে তারেক রহমানকে দেখতে এসে বৃদ্ধা নারীর মোনাজাত

১৯

মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেওয়ায় সড়ক অবরোধ

২০
X