রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘দেশের ৪০ শতাংশ মাছের চাহিদা পূরণ করছে রাজশাহী’

রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক মৎস্য সম্মেলন এবং প্রদর্শন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি : কালবেলা
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক মৎস্য সম্মেলন এবং প্রদর্শন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি : কালবেলা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ময়মনসিংহে বেশি মাছ চাষ হলেও রাজশাহীর অবদানও কম নয়। রাজশাহী থেকে সারা দেশে প্রায় ৪০ শতাংশ মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মৎস্য অনুষদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মৎস্য সম্মেলন এবং প্রদর্শন-২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন দুভাবে হয়ে থাকে। একদিকে নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড় থেকে অপরদিকে মৎস্য চাষের মাধ্যমে। দুটো পদ্ধতিই গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য চাষ নিজের গুণেই এগিয়ে যাচ্ছে। অ্যাকুয়াকালচার মাধ্যমে মৎস্য চাষের কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী দামে মাছ খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, আমরা প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছ ধরব না, খাব না।

তিনি বলেন, মাছ রপ্তানি হতেই হবে। যেসব দেশে মাছ রপ্তানি করবেন, সেসব দেশেও বাঙালি আছে। আপনার এই মাছটি তারাই খাবে। প্রবাসীরা কষ্ট করে আমাদের রেমিট্যান্স পাঠায় অথচ তারা যদি মাছ না পায় সেটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমি মনে করি, আমাদের রপ্তানির সুযোগ অবশ্যই তৈরি করতে হবে। এ সময় তিনি কার্পজাতীয় মাছের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মৎস্যচাষের ফিড নিরাপদ কিনা- এ প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, মাছচাষ করতে গিয়ে নিরাপদ ফিডের প্রয়োজন হয়। ফিড যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে যে মাছটা উৎপাদিত হচ্ছে সেটা ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই অনিরাপদ ফিড যাতে বাজারে না আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। নিরাপদ ফিডের পাশাপাশি মাছের জন্য নিরাপদ ওষুধও নিশ্চিত করতে হবে।

মাছ উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ সম্মেলনেও সারাবিশ্বে মাছ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, বিশেষ করে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পুকুরের মাছগুলো বেশি তাপ সহ্য করতে না পেরে মারা যাচ্ছে। তাই সেটার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে কী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা শিখতে হবে এবং মাছকে বাঁচার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

ফরিদা আখতার বলেন, মৎস্যচাষ নীতি প্রণয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এটা হলে চাষি হিসেবে করণীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে। এ নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান সহজ হবে। এ সময় তিনি ইলিশ রক্ষা এবং কৃষিজমিতে পুকুর খনন না করে, অনাবাদি জমিতে পুকুর খনন করে মৎস্যচাষের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের ডিন ও সামিট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. মো. আক্তার হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। এ সময় রাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মৎসচাষি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘তোর ভাইকে মাথায় গুলি করিয়ে মেরেছি, তোকে মারতে আমি যাব’

বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ডাচদের

৯ ঘণ্টা পর তিন রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১১৫ বছরে প্রথমবার দলিল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

ডাকসু ইস্যুতে সেই নেতার বিরুদ্ধে জামায়াতের অ্যাকশন

চট্টগ্রাম-২ আসনে হাইকোর্টে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির সারোয়ার

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন পাক কিংবদন্তি

লাগাতার বিতর্কে আলোচনার তুঙ্গে ডাকসু নেতা সর্বমিত্র

বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও বিপত্তিতে পড়েছে স্কটল্যান্ড

চিনি ছাড়া কফি কি স্বাস্থ্যকর, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ

১০

গোপালগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

১১

চাকরি দিচ্ছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক

১২

একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ড চলবে না : জামায়াত আমির

১৩

বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বর্জনের বিপক্ষে ওয়াসিম আকরাম

১৪

জবিতে এআই ও বিজনেস ইনকিউবেশন ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১৫

অক্সফোর্ডের গবেষণা / তাপমাত্রা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ

১৬

ইসরায়েলি হামলায় টিভি উপস্থাপক নিহত

১৭

তিন রুটে ৭ ঘণ্টা ধরে বন্ধ ট্রেন চলাচল, শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তি

১৮

সাদ্দামের মায়ের প্রশ্ন, ‘এই জামিন দিয়ে কী হবে’

১৯

ঢাবির বিজ্ঞান ইউনিটে ৯২ শতাংশ ফেল

২০
X