

ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার জন্য ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি স্কটল্যান্ড। তবে আইসিসির এক সিদ্ধান্তে ভাগ্য খুলে যায় স্কটিশদের। ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেলার অনড় অবস্থান সেই সুযোগ এনে দেয় তাদের।
বাংলাদশেকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। তাতে র্যাংকিং বিবেচনায় অনেকটা ‘ভাগ্যগুণে’ বিশ্বকাপের টিকিট পায় স্কটল্যান্ড। তবে স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের অস্ট্রেলিয়ান প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, এভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাননি তারা।
এদিকে গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে স্কটল্যান্ড। তবে দলে থাকা এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের ভিসা নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে স্কটিশরা।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ছিল ‘সি’ গ্রুপে। আর এই গ্রুপের সব ম্যাচ ভারতের মাটিতে। বাংলাদেশ না খেলায় এখন ভারতে ম্যাচগুলো খেলবে স্কটিশরা।
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া প্রসঙ্গে ট্রুডি লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশ দলের জন্য আমাদের সহানুভূতি আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা কখনোই এভাবে বিশ্বকাপে যেতে চাইনি। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের একটা প্রক্রিয়া আছে। আর কেউই আমাদের মতো এমনভাবে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে বা আমন্ত্রণ পেতে চায় না। এটা স্বীকার করছি, আমাদের অংশগ্রহণটা একেবারেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ফল। আর সে কারণেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে।’
এভাবে সুযোগ পেলে স্কটল্যান্ড সমালোচনার মুখে পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘ওই ধরনের ভাষা ব্যবহার করব না… মানুষের নিজস্ব মতামত থাকবে। আর সে মতামত দেওয়ার অধিকার তাদের আছে। শুধু এতটুকু জানি, আমাদের বিশ্বকাপ খেলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা কিন্তু আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা একটি দল। একই সঙ্গে আমরা শক্তিশালী দল, যারা সারা বছরই নিয়মিত ক্রিকেট খেলে।’
ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের নাগরিক কিংবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের ভারতীয় ভিসা পেতে বিলম্ব হওয়া নতুন কিছু নয়। এমনকি এ তালিকায় বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও আছেন।
তবে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড আত্মবিশ্বাসী যে, হাডার্সফিল্ডে পাকিস্তানি বাবা ও ব্রিটিশ-পাকিস্তানি মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া সাফিয়ান শরিফ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম ম্যাচের আগেই ভিসা পাবেন। উল্লেখ্য, সাফিয়ান শরিফ সাত বছর বয়সেই স্কটল্যান্ডে যান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে তিনটি পরিবর্তন এনেছে দলটি। প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া ১৯ বছর বয়সী পেসার জাইনুল্লাহ ইহসান। এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে ১৭ টি-টোয়েন্টি খেলা টম ব্রুসকেও দলে রেখেছে স্কটিশরা।
স্কটল্যান্ড স্কোয়াড
রিচি বেরিংটন (অধিনায়ক), টম ব্রুস, ম্যাথিউ ক্রস, ব্র্যাড কারি, ওলি ডেভিডসন, ক্রিস গ্রিভস, জাইনুল্লাহ ইহসান, মাইকেল জোন্স, মাইকেল লিস্ক, ফিনলে ম্যাকক্রিথ, ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন, জর্জ মানসি, সাফিয়ান শরিফ, মার্ক ওয়াট, ব্র্যাড হুইল
ট্রাভেলিং রিজার্ভ: জ্যাসপার ডেভিডসন, জ্যাক জার্ভিস
নন-ট্রাভেলিং রিজার্ভ: ম্যাকেঞ্জি জোন্স, ক্রিস ম্যাকব্রাইড, চার্লি টিয়ার।
মন্তব্য করুন