

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে লাঠি হাতে বহিরাগতদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনার পর ‘প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায়’ নিজের কাঁধে নিয়ে পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক ঘটনায় লাগাতার আলোচনায় ছিলেন এই ডাকসু নেতা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসা কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। পরে জানানো হয়, ওই কিশোর-তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত ছিলেন।
এরপর আরও একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে দেখা যায় ওঠবস করানো ব্যক্তিদের সংখ্যা নিজেই গুনছেন সর্বমিত্র। ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। কোন ক্ষমতাবলে তিনি এ ধরনের শাস্তিমূলক আচরণ করেছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনরা।
তবে লাঠি হাতে সর্বমিত্রের এমন আচরণ নতুন নয়। এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া গত বছরের অক্টোবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় খাবারের গাড়ি, হকার ও অনুমোদনহীন দোকানপাট উচ্ছেদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। সে সময় তার এমন অভিযান পরিচালনার আইনগত এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সর্বমিত্র চাকমা। তিনি বলেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা তাকে নির্বাচিত করেছেন। বহিরাগতদের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা, মোবাইল, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আইন নিজের হাতে নেওয়ার বিষয়ে ভুল স্বীকার করে সর্বমিত্র বলেন, ‘আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে আমার মনে হয়েছে, এই কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাবনা-চিন্তা কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ঘিরেই। একা বিভিন্ন জায়গায় উদ্যোগ নিয়েছি, সমাধানের চেষ্টা করেছি, এমনকি নিজের দায়িত্বের বাইরেও গিয়েছি। তবে যত কিছুই হোক, আইন তো আইনই। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নিরাপত্তা বিধানে গিয়ে আমাকে আইনের ঊর্ধ্বে যেতে হয়েছে।’
মন্তব্য করুন