

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক সুমন ও তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ থেকে ২০২১-২২ করবর্ষ পর্যন্ত সময়ে জিয়াউল হক সুমনের গ্রহণযোগ্য আয় পেয়েছে মাত্র ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৪ টাকা। অথচ ওই সময়ে তার মোট অর্জিত সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বেশি। ফলে তার আয়ের উৎসের সঙ্গে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) দুদকের উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের প্রথম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী জিয়াউল হক সুমন দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। একইসঙ্গে তার নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ১৬ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি স্বামীর সহায়তায় ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এ ঘটনায় শাহানাজ আকতার ও জিয়াউল হক সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, শাহানাজ আকতার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শিত আয়ের তুলনায় তার প্রকৃত সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। যাচাইয়ে দেখা যায়, তার নামে অর্জিত সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি।
দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত চলাকালে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আইনগতভাবে আমলে নেওয়া হবে। কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে ২২ ডিসেম্বর মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়।
দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, মামলা দুটির তদন্ত চলাকালে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সেটিও আমলে নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন