

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের থানা হেফাজতে রেখে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। এছাড়াও যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডিএমপির তেজগাঁও জোনের এডিসি মো. ফজলুল করিম কালবেলাকে বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ঘটনাস্থল এবং আশপাশ থেকে অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে, তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
এর আগে, অবৈধ মোবাইলফোন বন্ধে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এনইআইআর কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে দুপুরের পর থেকে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এ সময় বিটিআরসি ভবনে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে এই ভাঙচুর শুরু হয়। বিটিআরসি ভবনের বাইরে দুই রাস্তার দিক থেকে ঢিল মেরে ভাঙচুর চালানো হয়।
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত এনইআইআর বাস্তবায়ন হওয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা এই হামলা চালান।
হামলায় বিটিআরসির মসজিদের গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ পড়ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি।
ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে বিটিআরসি ভবনের করিডোর ও মূল ভবনের গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ এমন হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। এছাড়া বিটিআরসি ভবনের পাশের গলিতে রাখা বিআরটিসির একটি বাসও ভাঙচুর করা হয়।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিটিআরসি ভবনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
বিটিআরসির এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, হঠাৎ করে ভাঙচুর শুরু হয়। রাস্তা থেকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়ে ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কিছু লোক বিটিআরসি ভবনের সীমানার কাচ ভাঙচুর করেছে। সেখানে সড়কে থাকা বিটিআরসির একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন