শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

টাকা দিলেই মিলে মাদক ব্যবসার অনুমতি!

শেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়। ছবি : কালবেলা
শেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়। ছবি : কালবেলা

শেরপুরে টাকা দিলেই মিলছে মাদক ব্যবসার অনুমতি। এমন অভিযোগ শেরপুর মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিনের বিরদ্ধে। ওই দুই কর্তকর্তাকে সাপ্তাহিক এবং মাসিক হারে টাকা দিলেই মাদক ব্যবসার অনুমতি মিলছে। না দিলেই মামলা-হামলা চলে। রক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ধোপাঘাট এলাকার মো. হারুন নাম এক মাদক ব্যবসায়ী। ওই মাদক ব্যবসায়ী মাদক অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

হারুন তার লিখিত অভিযোগে জানায়, আমি দীর্ঘ দুই বছর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শেরপুর মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা এনামুল ও জসিম উদ্দিনকে সাপ্তাহিক ১২ হাজার টাকা করে দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করেছি। সম্পতি আমার ভাই মৃত্যুজনিত কারণে পারিবারিক চাপে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হই। ফলে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি নাই। তাই ওই মাদক কর্মকর্তার রোষাণলে পড়তে হয়েছে আমাকে।

গত ২৫ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওষুধ কিনতে ভাগিনা আমিনুলকে নিয়ে রিকশা দিয়ে ওষুধ কিতে শহরে আসছিলাম। পথিমধ্যে ওই দুই মাদক কর্মকর্তাসহ আরও চারজন আমাদের রিকশা থেকে নামায় এবং প্রচণ্ড মারপিট করে। এরপর আমাকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে ধরে রেখে ভাগিনাকে দিয়ে বাড়িতে টাকার জন্য পাঠায়। এদিকে আমার প্যান্টের ভিতর হিরোইনের পুটলা ঢুকিয়ে দিয়ে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে জেলা পরিষদের পাশে জনশূন্য একটি স্থানে নিয়ে যায়। এর পরে আমার পরিবারের সঙ্গে শুরু হয় টাকার দরকষাকষি। ১ লাখ টাকা চাওয়া হয় এবং দর কষাকষির একপর্যায়ে আমার ভাইয়ের চল্লিশা করার জন্য রাখা ৪০ হাজার টাকা ও ধার করা আরও ২০ হাজার মোট ৬০ হাজার টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানায়, ওই দিন মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর কর্তৃক হারুন মিয়ারকে গ্রেপ্তার করলেও গ্রেপ্তারের ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরে হারুন বাড়িতে ফিরে যায়। টাকা লেনদেনের বিষয়টি অনেকেই জানেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এই দুই কর্মকর্তা ওই এলাকার বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে মাসোহারার শর্তে মাদক ব্যবসার অলিখিত অনুমতি দেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এদিকে শেরপুরের বেশকিছু এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ওই দুই মাদক কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কমবেশি মাসোহারা নিয়ে থাকেন।

এদিকে অভিযুক্ত ওই দুই কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ও জসিম উদ্দিন বলেছেন, অভিযোগ মিথ্যা। নেশার সঙ্গে যারা জড়িত আমরা তাদের প্রধান শত্রু, তাই তারা এসব কথা বলছে। তবে অভিযোগকারীর সঙ্গে ওই অফিসের জনৈক কর্মকর্তা মাসুদের সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত ওই দুই কর্মকর্তা। মাদক ব্যবসায়ী হারুনের গ্রেপ্তার ও টাকা নেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তারা।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোনালিসা বেগম বলেছেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাকে (ডিবি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই দুই কর্মকর্তা যেহেতু পুলিশের অধীনে নয়, তাই অভিযোগ সত্য হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিবেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কেন ভোট দিলেন না শাকিব খান? জানা গেল আসল কারণ

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মাঠে নামার আগে হালান্ডের বার্তা, ‘আমি ব্রাজিলকে ভালোবাসি’

৮ কেজি ওজনের পোয়া মাছ অর্ধ লাখে বিক্রি

প্রফেসর আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে এবি পার্টির শোক

নতুন পরিচয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ‘টিপসই’

ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি, করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর

ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

পা দিয়ে লিখেই মাস্টার্স জয় নিলার, এখন স্বপ্ন শিক্ষকতার

বিচারের রায়েই মুছবে জুলাইয়ের রক্তের দাগ: শ্রম প্রতিমন্ত্রী নুর

১০

নরওয়ের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামতে পারে ব্রাজিল

১১

স্পর্শকাতর স্থানে চেপে ধরে স্বাক্ষর নেওয়া সেই লিটু গ্রেপ্তার

১২

মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা নিহত

১৩

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি / ২ শীর্ষ নেতাকে হত্যায় ইরানে প্রবেশ করেছিল ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান

১৪

১৮ জেলায় রাত ১টার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

১৫

ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কে জিতবে জানাল এআই

১৬

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের NEO PAED Zone উদ্বোধন

১৭

স্বাধীনতা দিবসের রাতে নিউইয়র্কে বন্দুক হামলা, শিশুসহ আহত ৮

১৮

বঙ্গোপসাগরে ভাসছিলেন ১৭ জেলে, তিন দিন পর ট্রলারসহ উদ্ধার

১৯

উপকূলের আরও কাছে সুপার টাইফুন, এলাকাবাসীকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান

২০
X