

দুই বন্ধু। তারা দুজনই ছাত্র। একসঙ্গে খেলাধুলা, আড্ডা দেওয়া, বেড়ে ওঠা তাদের। হাসি-আনন্দে সারাক্ষণ মেতে থাকা দুই বন্ধু একসঙ্গেই বের হয়েছিলেন একটি মোটরসাইকেলে। উদ্দেশ্য ছিল রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান যাওয়ার। কিন্তু সেটিই ছিল তাদের অন্তিম যাত্রা। সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে দুজনই নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টায় উত্তর রাঙ্গুনিয়ার হাজি পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দুজনের একসঙ্গে জানাজা, অতঃপর পাশাপাশি কবরেই তাদের দাফন করা হয়। বেঁচে থাকতে তারা যেমন ছিলেন একসঙ্গে, অন্তিম যাত্রাতেও পাশাপাশি থাকা দুই বন্ধুর এমন মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে চলছে শোকের মাতম। জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে।
এর আগে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়ার চারাবটতল তক্তারপুল এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন— উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের আবিদপাড়া এলাকার কামাল ভান্ডারীর ছেলে আবু সুফিয়ান আরমান (১৮)। নবম শ্রেণিতে পড়ত স্থানীয় হজরত শাহ সূফি ছালেহ আহমদ সুন্নিয়া মাদ্রাসায়। আর লালানগর ইউনিয়নের আলমশাহ পাড়ার হাজি বাড়ি এলাকার মো. আকিব (১৬) ছিল পরিবারের সবার ছোট। সে রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
এদিকে দুর্ঘটনার তিন দিন আগে ফেসবুকে দেওয়া এক লেখায় নিহত আবু সুফিয়ান আরমান লিখেছিল, ‘আমার দেখা এই মাসের মধ্যে, পাশের এবং আমাদের এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন মানুষ আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেলেন। আল্লাহ তাদের জান্নাত নসিব করুন। যারা দেশে এবং প্রবাসে আছে সবাইকে হেফাজত করুন। একটাই চাওয়া, আল্লাহ আমাদের ইমানের সঙ্গে মৃত্যু দিও।’ তখন কেউ বুঝতে পারেনি, এই কথাগুলো এত দ্রুত বাস্তব হয়ে উঠবে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, আকিব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল, পেছনে বসে ছিল আরমান। শৈশবের বন্ধুত্বটা যেন সেই শেষ যাত্রাতেও আলাদা হয়নি। তবে সড়ক দুর্ঘটনার চেয়েও বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে আরমানের ফেসবুক পোস্ট। আরমানের সেই লেখা এখন আর শুধু একটি ফেসবুক পোস্ট নয়। এটি হয়ে উঠেছে একটি পরিবারের গভীর শোক, বন্ধুদের হাহাকার আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক নীরব কান্না।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন