মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভরসা শুধু নৌকা

ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। ছবি : কালবেলা
ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। ছবি : কালবেলা

২০ হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। বছরের পর বছর নৌকায় পার হচ্ছেন দ্বীপ গ্রাম খ্যাত যশোরের মণিরামপুরের খাজুরা বাঁওড় আর কপোতাক্ষ নদ ঘেরা পারখাজুরাবাসী।

গ্রামটি যেন রূপকথার কোনো সভ্য সমাজ ছাড়াই নির্বাসনের এক অচিনপুরী। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম নৌকা পারাপারেই জীবন পার করে দিয়েছেন। অদূরে দুই দিকে রাস্তা হওয়ায় গ্রামটির একাংশের মানুষের ভোগান্তি কমলেও বেশিভাগ মানুষের পারাপারের ভরসা একমাত্র নৌকা।

ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারপারে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৌসুমি নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। অল্পের জন্য আরও ১০ জন প্রাণে রক্ষা পান। ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতুর দেখাদেখি এ গ্রামের মানুষও তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অর্থাভাবে সেই কাজের অগ্রগতি থেমে আছে।

মন চাইলেও আর পাঁচটি গ্রামের মানুষের মতো সহসাই গ্রামের বাইরে যেতে পারেন না এখানে বসবাসরত মানুষরা। রোগগ্রস্ত মুমূর্ষু রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। গ্রামবাসীর আত্মীয়স্বজনও সচারচর আসেন না। কৃষকদের ক্ষেতে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যেতে হয়। অন্য যানবাহনে গেলে অনেক ঘুরতে হয়। তাছাড়া পরিবহন ভাড়া বেশি লাগে।

স্থানীয় আসলাম হোসেন, কাকলী আক্তার, রহিমা খাতুনসহ একাধিক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, তাদের কলেজ যেতে নিয়মিত ঝুঁকি নিয়েই নৌকা পার হতে হয়।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মুনসুর দলদার বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রাম এটি। দেশের মধ্যে এত বড় গ্রাম আছে কিনা তার জানা নেই। এমন গ্রামের লোকদের নিয়মিত ঝুঁকি নিয়েই চলাফেরা করতে হয়।

মাঝি রব্বানি বলেন, প্রতিদিন প্রায় তিনশ থেকে পাঁচশ লোক পার হয়। পারাপারের বিনিময়ে টাকা ও বছর শেষে গৃহস্থের ফসল নেন।

স্কুলশিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রামটির উত্তর পাশে ঝাঁপা বাঁওড়, উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণ পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদ আর দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে উত্তর-পূর্ব কোণ পর্যন্ত খাজুরা বাঁওড় বিস্তৃত। বর্তমানে দুই দিক দিয়ে রাস্তা হলেও গ্রামটির সিংভাগ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয়নি।

কালবেলা/এনএএস/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাসার ছাদ থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরান নির্ধারণ করবে: তেহরান

অচল খুচরা টাকা  / টাঙ্গাইলে ১-৫ টাকা নোটের বদলে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে চকলেট

আর্জেন্টিনার কোচকে মিথ্যাবাদী বললেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার

বঙ্গোপসাগরের এক ইলিশ সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি

স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায় যে ১২ খাবার

সবজির দাম নাগালের বাইরে, বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

রাকসুর জিএস আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগ

একসঙ্গে ৯৩ শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপারকে পদায়ন

‘জেলেনস্কিকে অবশ্যই ইরানি জাহাজে হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে’

১০

দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, প্রাণ গেল অটোরিকশাচালকের

১১

হলিউডে পা রোনালদোর, কোন চরিত্রে?

১২

প্রেম করে দ্বিতীয় বিয়ে, তালাক দেওয়ায় যে কাণ্ড ইউপি সদস্যের

১৩

লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

১৪

খাগড়াছড়িতে বিজিবি-চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, আগ্নেয়াস্ত্র ও ভারতীয় রুপি উদ্ধার

১৫

সময় বেঁধে সিএনজি স্টেশন মালিকদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

১৬

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

১৭

বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারির হঠাৎ অবসর

১৮

মন্তব্যকারীদের অফিসে এসে কথা বলার আহ্বান ওমর সানীর

১৯

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন: মির্জা ফখরুল

২০
X