গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

লিবিয়ায় অপহৃত বাংলাদেশি যুবককে ফেরত চান বাবা-মা

গাইবান্ধার মানচিত্র। গ্রাফিক্স : কালবেলা
গাইবান্ধার মানচিত্র। গ্রাফিক্স : কালবেলা

লিবিয়ায় বাংলাদেশি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে আটক লাজু মিয়া (২৫)কে ফেরত তার চান বাবা-মা। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের জীবনপুর গ্রামের আবুল কাশেমের প্রথম ছেলে। তিনি গত ১০ দিন ধরে মানবপাচারকারীদের কাছে আটক আছেন।

আবুল কাশেম জানান, তার ছেলে লাজু মিয়াকে গত বছরের ৬ অক্টোবর কর্মসংস্থানের জন্য লিবিয়ায় পাঠান। কিন্তু সেখানে কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়ায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইতালি যাওয়ার সময় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে আটক হন লাজু মিয়া। তারা লাজুকে একটি ঘরে আটকে রেখে দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে সাড়ে ১২ লাখ টাকা দাবি করে মানবপাচার চক্রের সদস্যরা।

ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত পেছনমোড়া করে বাঁধা। উপুড় করে শুইয়ে রাখা হয়েছে। হাঁটু ভাজ করে পায়ের তলায় লাঠি দিয়ে পেঠাচ্ছে দুই-তিনজন। নির্যাতনের ফলে চিৎকার করছেন লাজু মিয়া। দাবিকৃত টাকা না পেলে তাকে হত্যা করে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই পরিবারের। ফলে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর যেন কিছুই করার নেই তাদের।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলপুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা সালমা আকতার কবিতা জানান, লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের কথামতো গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাড়ে ১২ লাখ টাকা নিয়ে কুমিল্লা সদরে যান। কুমিল্লা র‌্যাব-১১ সদস্যরা জেলার চান্দিনা হাড়িখোলা এলাকায় টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও দুইজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- ভৈরবের সুমন, কুমিল্লার আনোয়ার হোসেন ও শিহাব।

এ ঘটনায় কুমিল্লার চান্দিনা থানায় আটক ৩ জনসহ মোট ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন আবুল হোসেন। মানবপাচার আইনে করা এই মামলায় তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এতকিছুর পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আবুল কাশেম।

মুঠোফোনে চান্দিনা থানার ওসি (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এই মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা ৬ জন থাকেন বিলিয়ায়। আর গ্রেপ্তার তিনজন বাংলাদেশে থেকে তাদের সহযোগিতা করেন। বিশেষ করে টাকা লেনদেন হয় তাদের মাধ্যমে।

আবুল কাশেমের প্রতিবেশী ভাতিজা শাহারুল ইসলাম লিবিয়ায় থাকেন। শাহারুল তার ভাই মিজানের মাধ্যমে আবুল কাশেমের নিকট থেকে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা নেয়। পরে মিজান ১৫ দিনের মধ্যে পাঁচপোর্ট ও ভিসা করে লাজু মিয়াকে লিবিয়ায় শাহারুলের কাছে পাঠায়। লিবিয়ায় কর্মহীন অবস্থান লাজু প্রায় সাতমাস শাহারুলের কাছে থাকেন। এ সময় লিবিয়ায় কাজ না থাকায় লাজু মিয়াকে ইতালি যেতে উৎসাহিত করা হয়। ইতালি যাওয়ার জন্যও আবুল কাশেমের নিকট থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তার সন্তানকে তুলে দেওয়া হয় এই মানবপাচারকারী চক্রের হাতে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সঞ্চয়পত্র নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিরিয়ানি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ২

ঘানার কালো জাদুই কি কাল হলো ইংল্যান্ডের

শনিবার পৃথিবীর পাশ দিয়ে উড়ে যাবে বিশাল গ্রহাণু

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ‘সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত’

দলে একাধিক বদল, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফাঁস ব্রাজিলের মাস্টারপ্ল্যান!

জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে: শ্রমমন্ত্রী

সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় সেই এসিল্যান্ডকে বদলি

অনলাইন জুয়ার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

ভোজপুরির প্রশংসায় অক্ষয়, বললেন 'ওরা কিছুই বুঝবে না'

১০

তিন নেতার রোগমুক্তি কামনায় ১২ দলীয় জোটের দোয়া 

১১

গুণীদের সম্মান জানালে গর্বিত জাতি হবে বাংলাদেশ: মঈন খান

১২

নকআউটে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা হতে পারে, সমীকরণ কী বলছে?

১৩

সারওয়ার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

১৪

১১ হাজার নাবিককে উদ্ধার করতে হরমুজে চালানো হবে অভিযান

১৫

ডিসি সারওয়ারের বদলি নিয়ে যা বললেন শ্রমমন্ত্রী

১৬

১/১১ সরকারের সময়ে তারেক রহমানের নির্যাতনের বিচার চাইলেন শাম্মী আক্তার

১৭

বিরোধীরা ফ্যাসিস্ট চিন্তা-চেতনা লালন করে: রিজভী

১৮

মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে খুন, বিকৃত করা হয় মরদেহ

১৯

রাশিয়ায় শ্রম উইং নিয়ে প্রকাশিত কালবেলার সংবাদের প্রতিবাদ দূতাবাসের

২০
X