

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেজমেন্টে থাকা বিপুল অক্সিজেন সিলিন্ডার ও হাজার লিটার ডিজেলের কারণে আগুন ভয়াবহ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস, যা নেভাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগে।
কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। আগুনের ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আড়াই শো রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে হাসপাতালের বেজমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় মিসেস লাভলী (৬৮) নামে এক রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। লাভলী হৃদরোগজনিত জটিলতায় সিটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালটি পুনরায় চালু করতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। আগুনে হাসপাতালের দুটি অক্সিজেন প্লান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেজমেন্ট এলাকায় বিকট শব্দ শোনার পরপরই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে জেনারেটর কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। এতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন। ক্রেন ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমাতে স্থানীয়রা হাসপাতালের কাচ ভেঙে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের জেনারেটর থেকে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ রানা জানান, রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৯টা ৩৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে ১১টি এবং পরে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দিয়ে মোট ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি বলেন, ‘বেজমেন্ট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন সিলিন্ডার ও প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল মজুত ছিল। এসব দাহ্য পদার্থ বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন ও ধোঁয়া ভবনের ১১ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।’ বেজমেন্ট অনেক মোটরসাইকেল ও গাড়ি পার্ক করা ছিল বলেও জানান তিনি।
মাসুদ রানা বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’