সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে ফজলু শেখ (৪৫) নিহতের ঘটনায় অবশেষে এমপি আব্দুল মমিন মন্ডলের আস্থাভাজন শ্রমিক লীগ নেতা মোতালেব সরকারকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে নিহত ফজলু শেখের ভাই বিপুল রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মোতালেব সরকার ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, সোমবার নিহতের ভাই, ছেলে, মেয়ের জামাই এসেছিলেন। নিহতের ভাই বিপুল রহমান বাদী হয়ে মোতালেব সরকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসাড়া গ্রামে শ্রমিকলীগ নেতা মোতালেব সরকারের বাড়িতে বোমা বানাতে এসে বিস্ফোরণে নিহত হন ফজলু শেখ। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিলপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল শেখের ছেলে। সোমবার সকালে মিলপাড়া কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে সুবর্ণসাড়ার সরকার বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হলেও বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পর কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে আহত অবস্থায় দুজনকে নিয়ে যেতে দেখেন স্থানীয়রা। ওইদিন সাংবাদিক ও পুলিশকে প্রেশার কুকার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মোতালেব জানিয়েছিলেন। আহত দুজনের হদিসও মেলানো যায়নি।
তবে তিনদিন পর শনিবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলু শেখের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা বোমা বিস্ফোরণেই তার মৃত্যু হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ঘটনার দিন নিহতের অবস্থান বেলকুচিতেই ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়।
ঢাকার শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন ও হাসপাতাল থেকে দেওয়া কাগজপত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।
রোববার সিআইডির পরিদর্শক মোহাইমিনুল সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল মোতালেব সরকারের বাড়ি পরিদর্শন করে নিশ্চিত হন সেখানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাই ঘটেছিল। তবে ঘটনার পরপরই এর আলামত নষ্ট করা হয়েছে। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত টাইলস বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মেঝেতে নতুন টাইলস বসানো হয়েছে।
সিআইডির পরিদর্শক মোহাইমিনুল সরকার কালবেলাকে বলেন, খোঁজাখুজি করে খালের পানি থেকে বিস্ফোরণের কিছুটা আলামত পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের স্থানে নতুন টাইলস ও দেওয়াল রং করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (বেলকুচি সার্কেল) জন রানা কালবেলাকে বলেন, বিস্ফোরণে নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন