ঘন কুয়াশা আর উত্তরের শিরশিরে হিম হাওয়ায় হাড় কাঁপছে কুমিল্লাবাসীর। এখনো পুরোপুরিভাবে নামেনি শৈত্যপ্রবাহ, তবু আকাশে সূর্যের দেখা নেই। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠান্ডার প্রকোপ। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তীব্র শীতের কারণে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত অসুখবিসুখ।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দীর্ঘভূমি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শীতার্ত কিছু লোক শীত নিবারণের জন্য শুকনো ডালপালা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছেন। এতেও যেন পুরোপুরি শীত নিবারণ হচ্ছে না তাদের।
উপজেলার সদর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের ব্যবসায়ীরা ও পথচারীরা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন। এমন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও আবাসিক এলাকায়। দিনের বেলার চেয়ে সন্ধ্যার পর ও ভোরের দিকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ে। ভোর থেকে সূর্য না ওঠার কারণে বেলা বাড়লেও তাপমাত্রার তেমন তারতম্য ঘটে না। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তীব্র শীতের প্রকোপে কষ্ট কমাতে আগুন পোহাচ্ছেন শীতার্ত মানুষ। তারা জানান, তারা খেটে-খাওয়া মানুষ। গায়ের গরম কাপড়ও হার মানছে এ তীব্র শীতের কাছে। তাই তারা আগুনের তাপ নিয়ে শীত নিবারণ করছেন। আগুনের কাছ থেকে সরে দাঁড়ালেই আবারও শীত জেঁকে বসে।
জানা যায়, এ উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে ঘন কুয়াশা আর হিম বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে এ জনপদের জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। হাড় কাঁপানো শীতে নাকাল স্থানীয় বাসিন্দারা। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের মানুষ। শীতের প্রকোপে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত নানা অসুখবিসুখ। তীব্র শীতের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশা পড়ার ফলে বোরো চাষিরা পড়েছেন বিপাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে এখনো তীব্র শৈত্যপ্রবাহ পড়েনি। তবে কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। তীব্র এ শীতের কারণ দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া। এ পরিস্থিতির মধ্যেই বৃষ্টি ও পুরোপুরি শৈত্যপ্রবাহ পড়ার সম্ভাবনার কথাও বলছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে শৈত্যপ্রবাহ পড়ার আগেই এ রকম তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে, যদি পুরোপুরিভাবে শৈত্যপ্রবাহ পড়ে তখন কতটা শীত অনুভূত হবে এ শঙ্কায় শঙ্কিত এ জনপদের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সূর্য না ওঠার কারণে খুব শীত পড়েছে। দিন দিন শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। স্বল্প আয়ের মানুষজন তীব্র শীতের কারণে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, কুয়াশার পাশাপাশি উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে বয়স্ক ও শিশুরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। শীতের তীব্রতা এতোটাই বেশি যে শরীর আবৃত গরম কাপড় ভেদ করে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন