ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে ফুলের রাজ্যে ভ্রমণ

ঐতিহ্যবাহী সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে আনন্দ ভ্রমণে মেতে ওঠেন যশোরের রুপদিয়া নার্সারি পরিবারের সদস্যরা।  ছবি : কালবেলা
ঐতিহ্যবাহী সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে আনন্দ ভ্রমণে মেতে ওঠেন যশোরের রুপদিয়া নার্সারি পরিবারের সদস্যরা। ছবি : কালবেলা

এখন পিকনিক মানেই দামি গাড়িতে ভ্রমণ কিংবা ধুমধাড়াক্কা ডিজে গানের সাথে দামি খাবার। তবে প্রচলিত এই ধারাকে পেছনে ফেলে অন্যরকম এক আয়োজন যশোরের মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঐতিহ্যবাহী সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে আনন্দ ভ্রমণে মেতে ওঠেন যশোরের রুপদিয়া নার্সারি পরিবারের সদস্যরা।

গ্রামবাংলার জনপ্রিয় গানের তালে তারা ১৪টি ঘোড়ার গাড়িতে স্বপরিবারে ভ্রমণ করেন ফুলের রাজ্যখ্যাত ঝিকরগাছার গদখালী। তাদের গায়ে ও মাথায় ছিল একই ধরণের গেঞ্জি ও ক্যাপ। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দৃষ্টি কাড়ে এই অঞ্চলের মানুষের। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তাদের।

আয়োজক কমিটির প্রধান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ইকবাল হোসেন জানান, তারা প্রতি বছরই ঘোড়ার গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে পিকনিকে যান। তারই অংশ হিসেবে এ বছর তারা ফুলের রাজ্যে বেড়াতে এসেছেন। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য গরুর গাড়ি, পালকি, ঘোড়ার গাড়ি। এগুলো আসলেই বিলুপ্তির পথে। আমাদের প্রজন্ম, সন্তানরা অনেকেই এই ঐতিহ্য সম্পর্কে জানে না। আমাদের প্রজন্মকে জানানো এবং বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আমাদের এই প্রয়াস। রুপদিয়া নার্সারি পরিবার থেকে প্রতিবছরের মতো এবছরও আমরা যশোরের আরেক ঐতিহ্য ফুলের রাজ্যে ঘোড়ার গাড়িতে বেড়াতে এসেছি।

বেড়াতে আসা সুমি খাতুন বলেন, আমরা ঘোড়ার গাড়িতে করে স্বপরিবারে বেড়াতে এসেছি। আমরা যতটুকু আনন্দ পেয়েছি, ঘোড়ার গাড়ি দেখে আশপাশের মানুষ বেশি আনন্দ পেয়েছে। অনেক মানুষ মাইক্রো, প্লেনে করে দূরে বেড়াতে যায়। আমরা সেটা না করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে ঘোড়ার গাড়িতে এসেছি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক কওসার আলী বলেন, আমরা সাত বছর ধরে ঘোড়ার গাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় পিকনিক করি। এখানে আমাদের পরিবারের শিশু, নারীসহ অন্তত দুইশজন এসেছেন।

পানিসারা ফুলমোড়ের চাষি ও উদ্যোক্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, নার্সারি পরিবারের সদস্যরা এখানে আসার আগেই আমাকে জানিয়েছিল। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছে এজন্য আমি খুব খুশি হয়েছি। আমাদের এই অঞ্চলে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন দেখলো মানুষ।

উল্লেখ্য, ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালী-পানিসারা-হাড়িয়া অঞ্চলে প্রায় ১২'শ হেক্টর জমিতে ১১ধরণের ফুলের বানিজ্যিক চাষ হয়। ফুলকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই অঞ্চলে ভ্রমণে আসেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শুভশ্রীর রাজনীতিতে আসা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি ২ কিশোর আহত

বিএনপির নারী প্রার্থীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যা

অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল কেন? আইসিসির কাছে জবাব চেয়েছে বিসিবি

রোজা শুরুর আগে যে ১০ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মঞ্জুম আলীর প্রার্থিতা বাতিল

মেট্রোতে ঝুলে জেল-জরিমানার কড়া হুঁশিয়ারি খেলেন বরুণ ধাওয়ান

প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা হরণ হতে পারে : ইশরাক

তারেক রহমানের সিরাজগঞ্জ সফরের খবরে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

১০

ওরির সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙলেন সারা

১১

জ্যাম বা জায়েদ খান নয়, কষ্ট একটাই আমি ঢাকা-৮ এর ভোটার : ফারিয়া

১২

চাঁদাবাজ ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের জনগণ রুখে দেবে : সাইফুল হক

১৩

আমরা বিজয়ী হলেও কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না : ডা. শফিকুর রহমান

১৪

প্লাস্টিক চাল কি সত্য নাকি গুজব

১৫

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশে ভূমিধস, ২৩ সেনার মৃত্যু

১৬

৫ দিনের তাপমাত্রা নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

১৭

উত্তরায় তারেক রহমানের জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি আশা মোস্তফা জামানের

১৮

কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী রক্ষক নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা 

১৯

দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

২০
X