বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩৩
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রোজা শুরুর আগে যে ১০ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

রমজানের প্রস্তুতি: রোজা শুরুর আগে ১০টি জরুরি কাজ ও আমল
রমজানের প্রস্তুতি: রোজা শুরুর আগে ১০টি জরুরি কাজ ও আমল | কালবেলা

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পেয়ালা হাতে দরজায় কড়া নাড়ছে মহিমান্বিত রমজান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে পারে এ বছরের প্রথম রোজা। অফুরন্ত বরকতের এই মাসে মুমিন-মুসলিমরা দিনব্যাপী পানাহার থেকে বিরত থেকে আত্মশুদ্ধির আমল করেন।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকির সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে। (মুসলিম : ১১৫১, মুসনাদে আহমদ : ৯৭১৪)

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজানের জন্য এমনভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন, তারা ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহর দরবারে দোয়া করতেন, যেন তিনি তাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তারপর রমজানের পরবর্তী ছয় মাস তারা আবার দোয়া করতেন যেন আল্লাহ তাদের রোজা ও ইবাদত কবুল করেন। এভাবে তাদের মধ্যে বছর জুড়ে রমজানের ছোঁয়া লেগে থাকত। (আসরারুল মুহিব্বিন ফি রামাজান : ৪২)

তাই মুমিনের জন্য জরুরি হলো, রমজানের অবিরত কল্যাণ লাভ করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কারণ, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভালো প্রস্তুতি মানেই ওই কাজটির অর্ধেক পূর্ণতা বা সফলতা অর্জন।

কালবেলার পাঠকদের জন্য ২০২৬ সালের রমজানের আগাম ১০টি প্রস্তুতিমূলক বিষয় জানিয়েছেন জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকার মুহতামিম মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান। চলুন দেখে নিই, রমজান শুরুর আগে কোন ১০টি বিষয়ে প্রস্তুতিগ্রহণ জরুরি-

১. প্রতিজ্ঞাগ্রহণ

এ বছর রমজান শুরুর আগে মানসিকভাবে এই প্রস্তুতি গ্রহণ করা যে, জীবনভর যত গোনাহ করেছি, এ রমজানে সেসব গোনাহ বা অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পেতে হবে। সবচেয়ে বেশি সাওয়াব পেতে হবে। রমজান শুরুর আগে প্রত্যেক মুমিনের এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা জরুরি।

২. তাওবাহ-ইসতেগফার করা

রমজানের আগে বছরজুড়ে যেসব ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সেগুলোর জন্য তাওবাহ-ইসতেগফার করতে হবে। কেউ যদি ভাবে যে, ‘রমজান চলে এসেছে, আর আমার সব গোনাহ এমনিতেই ক্ষমা হয়ে যাবে’- বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং আগে থেকে তাওবাহ-ইসতেগফার করে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে প্রস্তুত করা খুবই জরুরি। এতে আল্লাহ আপনার আগের সব গোনাহ মাফ করে দিয়ে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ দ্বারা জীবন সুন্দর করে দেবেন। এ জন্য বেশি বেশি ইসতেগফার পাঠ করতে হবে- اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ (আল্লাহুম্মাগফিরলি)।

অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন।

৩. কাজা রোজা আদায় করা

অতীতে রমজানের কোনো রোজা কাজা হয়ে থাকলে চলতি বছরের রমজান শুরুর আগে তা যথাযথভাবে আদায় করে নেওয়া। বিশেষ করে নারীদের ভাঙতি রোজা থাকতে পারে। তাই রমজানের আগে শাবান মাসের এ সময়ে কাজ রোজা আদায় করে নেওয়া উত্তম।

৪. রমজানের সব উপকারিতা স্মরণ করা

রমজান সম্পর্কে কোরআন-সুন্নায় যেসব ফজিলত মর্যাদা ও উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে, রমজান শুরু হওয়ার আগেই সেসব সম্পর্কে জেনে নেওয়া। সেসব উপকার পেতে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলার প্রস্তুতি নেওয়া। মাস রমজান আসতেছে, মানসিকভাবে বারবার এ কথার স্মরণ ও নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে এ দোয়াটি বেশি বেশি করা اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ (আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাজান)।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন।

৫. সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করা

রাব্বুল আলামিন রমজান মাসে অনেক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সবার ভাগ্যে জুটে না। কেননা এ ক্ষমা পেতে হলে দুইটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা করে তা থেকে ফিরে আসতে হবে।

কাজ দুটি হলো

শিরক থেকে মুক্ত থাকা। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শিরক না করা। কেউ ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়, ছোট বা বড় শিরক করে থাকলে রমজান আসার আগেই তা থেকে তাওবাহ-ইসতেগফারের মাধ্যমে ফিরে আসা।

হিংসা থেকে মুক্ত থাকা। কারো প্রতি কোনো বিষয়ে হিংসা না করা। কারণ হিংসা মানুসের সব নেক আমলকে সেভাবে জালিয়ে দেয়; যেভাবে আগুন কাঠকে জালিয়ে দেয়। তাই হিংসা পরিহার করে মনকে ক্ষমা লাভে স্বচ্ছ রাখা।

আরও পড়ুন : শাবান মাসে রমজানের আগমনী বার্তা

আরও পড়ুন : এ বছর কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা, জেনে নিন

৬. ফরজ রোজার নিয়ম-কানুন জেনে নেওয়া

রমজান মাস আসার আগে রোজা পালনের নিয়ম-কানুনগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। এতে রোজা পালনে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। কোনো রোজা নষ্ট বা মাকরুহও হবে না।

৭. শাবান মাসজুড়ে রমজানের মহড়া চালু রাখা

রমজানে বেশি বেশি ইবাদত করতে এবং রোজা রাখার জন্য শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বেশি বেশি কোরআন অধ্যয়ন করা। নফল নামাজ পড়া। তাওবাহ-ইসতেগফার করা। ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা। দান-সাদকাহ শুরু করা। যাতে এ মহড়ার বাস্তবায়ন পুরো রমজানজুড়ে সুন্দরভাবে চালানো যায়।

৮. গত হওয়া রমজানের অসমাপ্ত কাজ চিহ্নিত করা

চলতি বছরের রমজান মাস আসার আগে বিগত রমজানের নেক আমলগুলো করতে না পারার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। যেমন : কেন নিয়মিত কোরআন অধ্যয়ন করা হয়নি?কেন তারাবিহ পড়া হয়নি? কেন দান-সহযোগিতা করা হয়নি? কেন ইতেকাফ করা হয়নি এবং কেন রোজাদারকে ইফতার করানো হয়নি?

উল্লিখিত বিষয়গুলো চিহ্নিত করে এ বছর রমজান আসার আগে আগে কল্যাণকর সব নেক আমলগুলো করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

৯. রমজানের ২৪ ঘণ্টার রুটিন করা

রমজানের পুরো সময়টি কোন কোন কাজে কীভাবে ব্যয় হবে তার একটি সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করে নেওয়া। আগাম রুটিন থাকলে রমজানে চরম ব্যস্ততার মাঝেও নেক আমলসহ অন্যান্য কাজগুলোও ইবাদতের মধ্যেই কেটে যাবে।

১০. রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করা

শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদের অনুসন্ধান করা সুন্নাত। বর্তমানে প্রায় সব মানুষই চাঁদ দেখা কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকেন। আবার অনেকে মোবাইল বা রেডিও টিভির সংবাদের অপেক্ষা করেন। এতে চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়ার সুন্নাতটি থেকে বঞ্চিত হয় মুমিন-মুসলমান। তাই তা থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদ অনুসন্ধান করার সুন্নাতটি জীবিত করার সর্বাত্মক পূর্ব প্রস্তুতি রাখা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করতেন। এমনকি সাহাবিদের চাঁদ দেখতে বলতেন। রমজানের নতুন চাঁদ দেখলে প্রিয় নবী (সা.) কল্যাণ ও বরকতের দোয়া করতেন।

তাই যারা রমজানের নতুন চাঁদ দেখবে তারা বিশ্বনবীর (সা.) সেই দোয়াটিও পড়বে। হাদিসে আছে, হজরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন, اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ الله

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর তুমি যা ভালোবাস এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তৌফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক।’ (তিরমিজি : ৩৪৫১, মিশকাত : ২৪২৮)

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘শক্তির অপব্যবহার’ বলে আখ্যা ভারতীয় সাংবাদিকের

পৌনে ২ লাখ লোকের ইতিবাচক পরিবর্তন আনল ব্র্যাক ব্যাংক 

ডিমের আঁশটে গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো নিয়ে বড় সুখবর দিলেন লুৎফে সিদ্দিকী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরিবর্তন এনে পরিপত্র জারি

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত পাসের দাবি আহছানিয়া মিশনের

ক্ষমতায় গেলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সব কারখানা সচল করা হবে : জামায়াত আমির

যুব সমাজ ও নতুনরা ভোটের চিত্র বদলে দেবে : তুলি

নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে আমরা কেউ বাড়ি ফিরব না : আবু আশফাক

১০

ধানের শীষের প্রচারণায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন

১১

টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ

১২

তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী

১৩

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে কেউ আমন্ত্রিত ছিলেন না, দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের

১৪

বিজয় থালাপতি এখন বিপাকে

১৫

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে নতুন ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

১৬

নির্বাচন ও ডিজিটাল বাস্তবতা নিয়ে ‘ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ’ চট্টগ্রাম সিটির প্রস্তুতি সভা

১৭

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার 

১৮

সুর নরম আইসিসির

১৯

অরিজিতের বড় ঘোষণা, হতবাক সংগীতপ্রেমীরা

২০
X