

পর্দায় তিনি দেশপ্রেমিক জওয়ানের ভূমিকায়, অথচ বাস্তবে তার আচরণেই উঠল দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ! আসন্ন সিনেমা ‘বর্ডার ২’-এর প্রচারে গিয়ে বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন বলিউড তারকা বরুণ ধাওয়ান। মুম্বাইয়ের যানজট এড়িয়ে সিনেমার প্রচার চালাতে মেট্রো সফর বেছে নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেখানেই মেতে উঠলেন বিপজ্জনক ‘স্টান্ট’-এ। মেট্রোর হাতল ধরে ঝুলে পড়ার সেই দৃশ্য ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে মুম্বাই মেট্রো কর্তৃপক্ষ। প্রশংসা তো দূর, উল্টো জুটল জেল-জরিমানার কড়া হুঁশিয়ারি।
প্রশংসার মাঝেই নতুন বিপত্তি ‘বর্ডার ২’ ছবির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের পর বরুণের ‘জওয়ান লুক’ নিয়ে শুরুতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, ধীরে ধীরে তা দর্শকদের মন জয় করতে শুরু করেছিল। সমালোচকরাও তার পারফর্মেন্সের প্রশংসা করছিলেন। ঠিক এমন এক ইতিবাচক সময়েই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন অভিনেতা। মুম্বাইয়ের জ্যাম এড়াতে এবং সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি মেট্রো সফরের সিদ্ধান্ত নেন। বলিউডে সিনেমার প্রচারণার জন্য গণপরিবহন ব্যবহারের চল নতুন নয়, কিন্তু বরুণের এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত ‘বিপজ্জনক বিনোদনে’ রূপ নেয়।
মেট্রোতে ঠিক কী ঘটেছিল? ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শুরুতে বরুণ ধাওয়ান বেশ সাবলীলভাবেই সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। সহযাত্রীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছিলেন, জানতে চাইছিলেন তারা ‘বর্ডার ২’ কোন প্রেক্ষাগৃহে দেখবেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন তিনি হঠাৎ ট্রেনের ছাদের হাতল ধরে শরীর দুলিয়ে ঝুলে পড়েন। ভিডিওতে তাকে মেট্রোর হাতল ধরে রীতিমতো জিমন্যাস্টিকসের কায়দায় দোল খেতে দেখা যায়। তার এই কাণ্ড দেখে আশেপাশের যাত্রীরা অবাক হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।
বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই কঠোর অবস্থান নেয় মুম্বাই মেট্রো কর্তৃপক্ষ (MMMOCL)। বরুণের ওই ভিডিওটি নিজেদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে শেয়ার করে তারা তীব্র ভর্ৎসনা করে। পোস্টে লেখা হয়, “অ্যাকশন সিনেমার মতো এই ভিডিওর ক্যাপশনেও সতর্কবাণী থাকা উচিত ছিল। মুম্বাই মেট্রোতে এ ধরনের স্টান্ট করার চেষ্টা করবেন না। বন্ধুরা মিলে মেট্রো সফর উপভোগ করা যায়— আমরা বুঝি। কিন্তু এই হাতলগুলো ঝুলে থাকার জন্য নয়।”
কর্তৃপক্ষ আরও মনে করিয়ে দেয়, তারকারা আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাদের বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়, “মেট্রোর ভেতরে এমন আচরণ আইনত অপরাধ এবং এর জন্য কারাদণ্ডও হতে পারে। ভবিষ্যতে একজন দায়িত্ববান নাগরিকের মতো মেট্রোয় ভ্রমণ করুন।” সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে বরুণের কি সাধারণ নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা উচিত ছিল না? কেউ কেউ বলছেন, তাকে দেখে তরুণ প্রজন্ম উৎসাহিত হতে পারে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যদিও এই বিতর্ক নিয়ে বরুণ ধাওয়ানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সিনেমা মুক্তির ঠিক আগে এমন ঘটনা তার ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন