কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০৮ এএম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অভাবের তাড়নায় জন্মের পরই সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিলেন বাবা

শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবার। ছবি : কালবেলা
শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবার। ছবি : কালবেলা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অভাবের তাড়নায় জন্মের মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে কন‍্যা সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেন শফিকুল ইসলাম (৩২) নামে এক অসহায় বাবা। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বানুরকুটি গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে।

ওই গ্রামের মৃত্যু মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (২৮) শনিবার ভোর ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে একটি কন‍্যা সন্তানের জন্ম দেন। ভরণ পোষণ দিতে না পারার শঙ্কায় জন্মের মাত্র ৫ ঘণ্টা যেতেই প্রতিবেশি এক মামাতো বোনের হাতে ওই সন্তানকে তুলে দেন। এটি ওই দম্পতির পঞ্চম সন্তান। তবে লোক মুখে ছড়িয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে সন্তানকে তুলে দিয়েছেন বাবা শফিকুল ইসলাম। অপরদিকে চার বছর আগে ওই দম্পতি আরেক কন্যা সন্তানকে অজানা লোকের কাছে তুলে দেন।

জানা যায়, শফিকুল ইসলাম একজন বন্দর শ্রমিক। তিনি সোনাহাট বন্দরে শ্রমিকের কাজ করেন। তার তিন শতক জমি রয়েছে। তবে থাকার কোনো ঘর নাই। ছোট ভাইয়ের ঘরে থাকেন পরিবার নিয়ে। প্রায় ১৩ বছর আগে নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের খাষমহল গ্রামের মরিয়ম বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। অভাবের সংসারে ইতোমধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে ৪টি সন্তান। প্রথম সন্তান মফিজুল ইসলামের বয়স ৯ বছর, দ্বিতীয় সন্তান জান্নাতের বয়স ৭ বছর। এরপর তৃতীয় সন্তান ৪ বছর আগে জন্ম নিলেও নাম রাখা হয়নি। একদিন বয়সে প্রতিবেশী আকলিমার মাধ্যমে রামখানা ইউনিয়নের এক দম্পত্বির কাছে দত্তক দিয়েছেন। চতুর্থ সন্তান মোস্তফার বয়স ৩ বছর। এরপর পঞ্চম সন্তান মুক্তি জন্ম নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দিয়ে দেন প্রতিবেশী মামাতো বোন নি:সন্তান লাকী বেগম ও আলমগীর দম্পতির কাছে।

লাকী ও আলমগীর দম্পত্বির বাড়ি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে। তবে এই দম্পতি ঢাকায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন লাকী বেগমের পিতা আকবর আলী।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, শফিকুলের নিজস্ব ঘর বাড়ি নেই। ছোট ভাইয়ের বাড়িতে থাকে। স্থলবন্দরে পাথর ভাঙা শ্রমিকের কাজ করে খুব কষ্ট করে সংসার চালায়। এই লোকের বর্তমানে তিনটি বাচ্চা আছে। এই নিয়ে তিনি দুটি মেয়ে বাচ্চা দত্তক দিয়েছেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর ভাঙ্গা শ্রমিকের কাজ করি। আমার থাকার কোনো ঘর নাই। ছোট ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রিত থাকি। শ্রমের সামান‍্য আয় দিয়ে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা, তিন সন্তানের ভরণ পোষণ ও সংসারের খরচ চালানো আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। সবসময় অভাবের মধ্যে থাকতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে বুকের ধনকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছি। এর আগেও আরেক মেয়েকেও অন্যের কাছে দিয়েছি। সেটার খোঁজ খবর জানি না। বলতে পারেন অভাবের কারণেই এই পথে হাটা। ২০ হাজার টাকায় সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কথা সত্য নয়, দাবি করে বলেন, এতগুলো সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। অন্যের কাছে ভালো পরিবেশে আদর যত্নে মানুষ হবে এই ভেবে তাদেরকে দিয়েছি। টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

শফিকুলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, অভাব অনটনের জন্য মেয়েকে অন্যের কাছে দিয়েছি। সন্তানকে বিক্রি বা টাকার বিনিময়ে দেইনি।

শিশুকে দত্তক নেওয়া আলমগীর হোসেন জানান, আমরা নিঃসন্তান হওয়ায় শিশুটিকে দত্তক নিয়েছি। টাকা পয়সা দিয়ে কিনে নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

ইউপি সদস‍্য মনোয়ার হোসেন জানান, পূর্বে একটি সন্তান দত্তক দেওয়ার কথা জেনেছি। আজকের তথ‍্য আমার জানা নেই। তবে লোকটা খুব অভাবী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম ফেরদৌস জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিবেন বলে জানিয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নজরুল ইসলামের সতর্কতা

বগুড়ার জিয়াবাড়ি সাজছে নতুন রূপে

‘মুস্তাফিজের জায়গায় লিটন বা সৌম্য হলে কি একই সিদ্ধান্ত নিত বিসিসিআই?’

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিত : মির্জা ফখরুল

প্রিয় মাতৃভূমির বদনখানি মলিন হতে দেব না : শিক্ষা সচিব

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক চলছে

গণঅধিকার থেকে নুরুকে বহিষ্কারের তথ্যটি ভুয়া

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন

পতিত স্বৈরাচার নির্বাচন বানচাল করতে চায় : সালাহউদ্দিন আহমদ

১০

হ্যাটট্রিক করে বিপিএলে মৃত্যুঞ্জয়ের অনন্য কীর্তি

১১

রেকর্ড দরপতনে ইরানের রিয়াল, ডলার ছাড়াল ১৪ লাখ ৭০ হাজার

১২

বিপিএল ছাড়ার হুমকি ঢাকা ক্যাপিটালসের

১৩

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই : জামায়াত

১৪

প্রিমিয়ার লিগ জয়ের জন্য শক্তি বাড়াল ম্যানসিটি

১৫

যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান আলোচনা, নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভারত

১৬

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার / কেন বাংলাদেশে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চাইছে পাকিস্তান

১৭

খালেদা জিয়া জনগণের মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন : কবীর ভূঁইয়া

১৮

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় জেডআরএফের দোয়া মাহফিল

১৯

মাঠেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন ক্রিকেটার

২০
X