ঝিনাইদহ ব্যুরো
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৪, ০৮:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঝিনাইদহে এনজিওর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, ভুক্তভোগী সংস্থাটিরই কর্মীরা

সিও এনজিওর হয়রানির প্রতিকার চেয়ে ঝিনাইদহে মানববন্ধন। ছবি : কালবেলা
সিও এনজিওর হয়রানির প্রতিকার চেয়ে ঝিনাইদহে মানববন্ধন। ছবি : কালবেলা

ঝিনাইদহে ‘সোসিও ইকোনমিক হেলথ এডুকেশন অর্গানাইজেশন (সিও)’ নামে একটি এনজিওর হয়রানির প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন এর কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সিও অফিসে আটকে নির্যাতন এবং মিথ্যা চেকের মামলা দিয়ে হয়রানি, চাকরির সময় জমা নেওয়া শিক্ষা সনদ ফেরত না দেওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগও জমা দেন।

নির্যাতিতদের মধ্যে ফরিদপুরের সদর শাখার সাবেক ম্যানেজার গাইবান্ধা জেলার সুই গ্রামের এ.বি.এম. মাহবুবুর রশিদ, ঝিনাইদহ সদর শাখার সাবেক ম্যানেজার খুলনার মাসুদা পারভীন, সদর শাখার সাবেক ম্যানেজার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষিননগর গ্রামের মো. আজিজুল আলম, শৈলকুপার বাসিন্দা হিসাব রক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন ও যশোরের ঝিকরগাছা শাখার সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মেহেরপুরের আমদাহ গ্রামের মো. আমিরুল ইসলামসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

তারা জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, চাকরিতে যোগদানের সময় ব্যাংক চেক রেখে পরবর্তীতে টাকার অঙ্ক বসিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া, পিএফ ফান্ডের টাকা পরিশোধ না করা, যোগদানের সময় জমা নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ফেরত না দেওয়া, চাকরিতে যোগদানের সময় প্রশিক্ষণ বাবদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে কোনো প্রশিক্ষণ না করানো, জামানত ফেরত না দেওয়া, চাকরিকালীন কর্মরত ব্রাঞ্চে ঋণ আদায়ের ঘাটতি সেই ব্রাঞ্চের কর্মরতদের নামে ঋণ দেখিয়ে সমন্বয় করা, সদস্য ভর্তি ফি হিসেবে অফেরতযোগ্য ৫০ টাকা করে রসিদ ছাড়া আদায়, ঋণ আবেদনের সঙ্গে অফেরতযোগ্য ১৩০ টাকা করে রসিদ ছাড়া আদায়, কোনো ব্রাঞ্চে আয়কর না দেওয়াসহ অনেক অনিয়ম করেছে এনজিওটি।

ভুক্তভোগী এ.বি.এম মাহবুবুর রসিদ বলেন, ‘আমি চাকরি ছাড়ার সময় অডিট রিপোর্টে আমার কোনো আর্থিক অনিয়ম ছিল না। চাকরি ছাড়তে চাইলে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট আমাকে অফিসে ডেকে এনে রাত ৩টা পর্যন্ত শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে রাজি হলে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে দেখি চাকরিতে যোগদানের সময় জমা রাখা ব্যাংক চেকে ২৯ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে । আমার পরিবারের সদস্য ও জামিনদারকেও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাকরিতে যোগদানের সময় জমা রাখা জামানত, সার্টিফিকেট কিছুই ফেরত দেয়নি।’

মেহেরপুরের আমদহ গ্রামের আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘সিও এনজিও’র মালিক সামুছলের প্রধান ব্যবসা খোলা চেকের মামলা। তার কাছে জমা রাখা কর্মীদের খোলা চেকে ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে গত বছর আড়াই শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সিও এনজিওর এই রমরমা ব্যবসায় শত শত কর্মী ও ঋণ গ্রহীতা পথে বসেছেন। অনেকে দেউলিয়া হয়েছেন, ভেঙে গেছে সংসার।’

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে আমার নামে মিথ্যা মামলা করে সিও। আদালতে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। কিন্তু আমার সার্টিফিকেট, জানামতের টাকা ফেরত দেয়নি সিও।’

মাসুদা পারভীন বলেন, ‘চাকরিতে যোগদানের সময় আমার নিজ নামের ৩টি ও স্বামীর নামে ১টি ব্যাংক চেক, আমার মূল সার্টিফিকেট তাদের কাছে রেখে দিয়েছে। আমার নামে ৬৩ লাখ ১০ হাজার আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে হয়রানি করছে।’

মো. আজিজুল আলম বলেন, ‘আমি বারোবাজার শাখায় কর্মরত ছিলাম। চাকরিতে যোগদানের সময় আমার নিজ নামের ৩টি ব্যাংক চেক ও জামিনদারের নামের ২টি ব্যাংক চেক জমা রাখি। আমি নিজ ইচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলে পরে আমার জমা রাখা ব্যাংক চেকে টাকার অঙ্ক বসিয়ে আমার নামে ঝিনাইদহ আদালতে সাড়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে। আমি চাকরি করা পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।

সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় আমার কাছ থেকে ৩টি ও আমার জামিনদারের ২টি ব্যাংক চেক জমা রাখে। আমি ১০ বছর চাকরি করেছি। আমার পিএফ ফান্ডে ৭ লাখ টাকা জমা হয়। চাকরি ছাড়ার পরে আমার পিএফ ফান্ডের টাকা পরিশোধ করতে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। সেই টাকা না দিয়ে উলটো আমার নামে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেছে।

এ ছাড়া যশোরের রবিউল, কুষ্টিয়ার শওকত আলী, একই জেলার গৌরাঙ্গ কুমার, কালীগঞ্জের আশিক, পাবনার সুবর্ণা খাতুন, সোহেল রানা, সাইফুল ইসলাম, শৈলকুপার মাহমুদ ও মহেশপুরের রুপা খাতুনসহ সহস্রাধিক ব্যক্তির নামে সিও এনজিও মিথ্যা চেকের মামলা করে হয়রানি করছে বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে সিও এনজিওর নির্বাহী পরিচালক সামছুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। আমি কারো কাছ থেকে খোলা চেক গ্রহণ করি না।

তিনি বলেন, যারা কর্মসূচি পালন করছেন তারা সবাই অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে বিষয়টির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

তীব্র ভাঙন / ১৫ দিনে নদীগর্ভে ১৯ বাড়ি

খামে‌নির মরদেহ পৌঁছেছে পবিত্র শহর কোমে

মরক্কোয় আইএসের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ১০

দাপুটে জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম, বিদায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র

০৭ জুলাই / কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আগুন

ঢাকাসহ ১৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

ডলারের চাপে বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

১১২ দিন অপেক্ষার পর  / এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে দেশে আসছে ‘নর্ডিক’

১০

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ 

১১

এটার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে: নাহিদ ইসলাম

১২

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগাল কোচের পদত্যাগ

১৩

সেই বালোগানকে নিয়েই বেলজিয়ামের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র

১৪

কাভার্ডভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে পরীক্ষার্থী নিহত

১৫

বাস কাউন্টার থেকে গলাকাটা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

১৬

আপত্তিকর ভিডিও করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার নারী

১৭

তরুণ উদ্যোক্তা মোস্তাকিমের অনলাইনে বিষমুক্ত আমের সফল গল্প

১৮

অবশেষে মার্কিন ফুটবলারের ‘লাল কার্ড’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ট্রাম্প

১৯

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর ‘প্রেস কর্মকর্তা’ হলেন মাহফুজ কবির মুক্তা

২০
X