সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪, ০৪:৩৪ এএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৭:১৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বিনা টিকিটে ১২ বছর রেল ভ্রমণ, অতঃপর...

বগুড়া রেলওয়ের স্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাছে বকেয়া টিকিটের মূল্য পরিশোধ করেন বেলাল উদ্দিন। ছবি : কালবেলা
বগুড়া রেলওয়ের স্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাছে বকেয়া টিকিটের মূল্য পরিশোধ করেন বেলাল উদ্দিন। ছবি : কালবেলা

বগুড়ার সোনাতলা থেকে বগুড়া শহরে ১২ বছর ধরে বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করেছেন এলজিইডির সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী বেলাল উদ্দিন (৬৪)। প্রায় ৫৪ বছর পর জীবনের শেষ বয়সে এসে অনুশোচনা থেকে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করেছেন এই কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে বগুড়া রেলওয়ের স্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট সাজেদুর রহমান সাজুর কাছে গিয়ে এ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেন তিনি। বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের কাছে টিকিটের মূল্য বাবদ বকেয়া সাত হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন এই বৃদ্ধ।

বেলাল উদ্দিনের বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সুজায়েত পাড়া গ্রামে। তবে বর্তমানে তিনি বগুড়া শহরের জহুরুলনগরে বসতবাড়ি করেছেন। বেলাল উদ্দিন বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেছেন। সর্বশেষ তিনি কাহালু উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে ২০২০ সালে অবসরগ্রহণ করেন।

১০ বছর বয়সে সোনাতলা উপজেলা থেকে ট্রেনে চড়ে বগুড়া শহরে যান বেলাল উদ্দিন। এরপর থেকে বহু দিন ট্রেন ভ্রমণ করেছেন এই পথে। বগুড়া শহরে পড়ালেখা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়ি হওয়ায় করতে হয়েছে ট্রেনে যাতায়াত। এই ভ্রমণগুলোর অধিকাংশ ছিল বিনা টিকিটে। যার সঠিক সংখ্যাও মনে নেই বেলাল উদ্দিনের। ওই সময় এটাকে স্বাভাবিক হিসেবেই মনে করতেন তিনি।

তবে বেলাল উদ্দিন বলেন, ডিপ্লোমা শেষে ১৯৮৩ সালে চাকরি শুরু করি। এর আগের ওই ১২ বছরে যদি সপ্তাহে দুবার যাতায়াত করে থাকি, সেই হিসেবে ৫২ সপ্তাহকে ১২ দিয়ে গুণ করেছি। আবার সেটাকে ২ দিয়ে গুণ করায় যা আসে সেটাকে ওই সময়ের ট্রেনের টিকিট মূল্য ৫ টাকা দিয়ে গুণ করে ৬ হাজার টাকার কিছু বেশি পরিমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু আমি সব মিলিয়ে ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।

তিনি বলেন, একজন মুমিন বান্দা হিসেবে আমি বিবেকের কাছে দংশিত হই। মূলত আখিরাতের ভয় থেকেই আমি এই টাকাটা পরিশোধ করেছি। কারণ মৃত্যুর পর অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। টাকা জমা দিতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আর এ কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন আমার স্ত্রী।

এ বিষয়ে বগুড়া রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, বিষয়টি ভালো লাগার। তার জমা দেওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। ট্রেন আমাদের জাতীয় সম্পদ। অনেকেই বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করে থাকেন। এটা কোনোভাবেই উচিত না। মাঝেমধ্যে অনেকে বিবেকের তাড়নায় এ রকম টাকা পরিশোধ করে যান। এর সংখ্যা অবশ্য কম। এর আগে এক ভদ্রমহিলা ১০ টাকা জমা করেছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্লট দুর্নীতি / শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার রেহানা-টিউলিপের রায় সোমবার

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন সোমবার

বিএমইউ ‘ছাত্র কল্যাণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

জাতির ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়ার সুস্থতা অনেক বেশি জরুরি : ব্যারিস্টার অসীম

ঢাকা উত্তরের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের টিম গঠন

মশক নিধনে ৫৬ স্প্রেম্যানকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিল চসিক

চট্টগ্রামে মাস্টার ইন্সট্রাক্টর প্রশিক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

জামায়াত বরাবরই বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : কাজী আলাউদ্দিন

ব্রাকসু নির্বাচন / প্রথম দিনে ৭ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ, ছাত্রী হলে নেননি কেউ

বগুড়ায় হাসিনাসহ ২৯৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১০

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা দেবে : মাসুদ সাঈদী

১১

৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি

১২

সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২১ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার

১৩

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সিংড়ায় বিশেষ দোয়া মাহফিল

১৪

রাজশাহীকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়তে চাই : আরএমপি কমিশনার

১৫

চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু, আইনি সেবা মিলবে ঘরে বসেই

১৬

ছয় লেনের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবরোধ

১৭

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল

১৮

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে বিভ্রান্তি তৈরি হবে : গোলাম পরওয়ার

১৯

পরিবারের সংবাদ সম্মেলন / ফেসবুক লাইভে কৃষক হত্যার চার্জশিটে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ

২০
X