ওয়াহিদুর রহমান রুবেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪, ০৫:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষা

কক্সবাজারের ইসিএ এলাকায় চলছে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ

কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন স্থাপনা। ছবি : কালবেলা
কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন স্থাপনা। ছবি : কালবেলা

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) নির্মাণ হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। এতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদীরা।

অভিযোগ উঠেছে, নির্মিতব্য ভবন মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।

সূত্র মতে, কক্সবাজার সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করে ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল এ সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করে সরকার। এ নির্দেশনা মতে, ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত, সৈকতের ঝাউ গাছসমৃদ্ধ ৩০০ মিটারে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ ও ৫০০ মিটার সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়। যদিও সরকার পরিবর্তনের পর কলাতলীতে খাসজমিকে প্লট করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেয় তৎকালীন সরকার। চুক্তিমতে কাজ শেষ করতে না পারায় সরকার ২০১০ সালে ৫৯টি প্লট বাতির করে। ২০১৮ সালে আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করেন।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিটের বিপরীতে ‘ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি আপ টু টেকনাফ’ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী জোয়ার ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে পৌরসভার প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ উল্লেখ করে এ এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। এর সঙ্গে যুক্ত হয় কউকের মাস্টারপ্ল্যান। এ প্ল্যান বাস্তবায়নে কউক সৈকতের ৩০০ মিটারে কোন স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে প্রচার চালানো হয়।

উচ্চ আদালতের আদেশ থাকার পরও সম্প্রতি কলাতলীর তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পশ্চিম পাশে জনৈক এমদাদ হোসেন, কলাতলী ভাঙ্গার মুখ এলাকায় সৈকতের মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বের মধ্যে জনৈক আলী আকবরের নেতৃত্বে একটি ভূমিদস্যু গ্রুপ, তার পাশেই ডাক্তার মিজানুর রহমান ও লিমনসহ আরও একটি সিন্ডিকেট ভবন নির্মাণের কাজ করছে। চারপাশে দেয়াল তুলে ডজন ডজন শ্রমিক দিয়ে চালানো হচ্ছে ভবন নির্মাণের কাজ। বাঁধাহীন স্থাপনার কাজ হচ্ছে দেখে আশপাশের একাধিক প্লটে মাটি ভরাটের কাজ চলে। এতে ইসিএ রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মুখ থুবড়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ বলেন, রহস্যজনক কারণে উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ইসিএ এলাকায় সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

তবে জেলা প্রশাসনের দাবি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মাসুদ রানা বলেন, অভিযান চালিয়ে কলাতলী জোনের এমদাদ হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনসহ একাধিক প্লটের চলমান কাজ বন্ধ করে স্থাপনাসমূহ আগামী তিন দিনের মধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে সরিয়ে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ পালন তো দূরের কথা উল্টো দ্বিগুণ শ্রমিক দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভূমি মালিকরা। ভবনের কাজ করা শ্রমিকরা জানিয়েছে, রোববার অফিস খোলার আগেই একতলার ঢালাই সম্পন্ন করতে প্লট মালিকের নির্দেশনা রয়েছে।

ভবন নির্মাণ বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে এলিগেন্স ডেভেলপমেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এমদাদ উল্লাহ বলেন, আমার জায়গা আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পড়েনি। সংশ্লিষ্টদের অনুমতি সাপেক্ষে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কাজ এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, বেআইনি সহযোগিতা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ইতোমধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ যদি নির্মাণ করে থাকে তবে বিষয়টি খবর নিয়ে জানাতে হবে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান কমডোর (অব.) মোহাম্মদ নুরুল আবছারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে কউক সচিব মো. আবুল হাসেম বলেন, চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশনায় আমরা জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে গত সপ্তাহে নির্মাণাধীন স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবারও কাজ চলে থাকলে প্রসিডিউর মতে নোটিশ পাঠানো হবে। পরে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালাব।

ইসিএ এলাকায় ভবন নির্মাণ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছি। দেশে এসেই বিষয়টি আবারও উচ্চ আদালতের নজরে আনা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেসির নতুন জুতায় লুকিয়ে আছে ২০ বছরের বিশ্বকাপের ইতিহাস

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

পাসপোর্টে ফিরছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দ, যুক্ত হচ্ছে ৩ জুলাই শহীদের ছবি

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলে যে বড় ঘোষণা দিতে পারে আর্জেন্টিনা

‘জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পারলে তা বিপজ্জনক হবে’

প্লেনে আসা ফলের ক্যারেটে মিলল ১৬ কেজি স্বর্ণ 

জনগণের করের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় নিশ্চিত করছে সরকার : আইনমন্ত্রী

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ জার্সি

মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় মুখ খুললেন ট্রাম্প

কুয়াকাটা সৈকতের বালুচরে ভেসে এলো বিরল সামুদ্রিক ‘ফাইলফিশ’

১০

বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি একসময় ছিলেন বাংলাদেশের তৈয়ব হাসানের সহকারী

১১

স্পেন ভক্তদের ভূরিভোজ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের নিমন্ত্রণ

১২

বিয়ের নথিতে অসঙ্গতি, তদন্ত শুরুর আগেই মেহেরপুর ছাড়লেন চীনা নাগরিক

১৩

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন আশা জাগিয়েছে: বরকতউল্লাহ বুলু

১৪

যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মার্কো রুবিও

১৫

ববিতে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৫

১৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে ‘জ্যোতিষী’ শান্তর ভবিষ্যদ্বাণী

১৭

কুমিল্লায় হাসানাহ ফাউন্ডেশনের মক্তব প্রকল্প পরিদর্শনে ড. মিজানুর রহমান আজহারি

১৮

বিসিবির ফ্যাসিলিটিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব হলেন দেলোয়ার হোসেন

১৯

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজে জুলাই স্মরণে প্রামাণ্যচিত্র ‘আলোর পথযাত্রী’ অনুষ্ঠিত

২০
X