কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেন অবৈধ নয়

পুরোনো ছবি
পুরোনো ছবি

অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করার বিধান সংবলিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরসহ) শৃঙ্খলাবিধান কেন সুপ্রিমকোর্টের হাতে পুরোপুরি ন্যস্ত করা হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ আদেশ দেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

আদেশের পর আইনজীবী শিশির মনির জানান, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরসহ) শৃঙ্খলাবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকে এবং রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করে থাকেন। এ ১১৬ অনুচ্ছেদকে চ্যালেঞ্জ করেছি। বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরসহ) শৃঙ্খলাবিধান কেন সুপ্রিমকোর্টের হাতে কেন ন্যস্ত থাকবে না, ১১৬ অনুচ্ছেদকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, ২০১৭ সালে বিচারকদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলাবিধি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে বিচার বিভাগের জন্য কেন পৃথক সচিবালয় করার নির্দেশনা দেওয়া হবে না সেই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালায়ের লেজিসলেটিভ ও পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে এসব রুলেল জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে সুপ্রিম কোর্টের ২০১২ সালের আদেশ প্রতিপালনের ব্যাপারে ৬০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি রিপোর্ট দাখিলে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ২৫ আগস্ট অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত চেয়ে এ রিট করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, মো. আসাদ উদ্দিন, মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. জহিরুর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শাইখ মাহাদী, আবদুল্লাহ সাদিক, মো. মিজানুল হক, আমিনুল ইসলাম শাকিল এবং যায়েদ বিন আমজাদ বাদী হয়ে এ রিট করেন।

রিটে বলা হয় যে, অধস্তন আদালতের দায়িত্বপালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়। একই সঙ্গে এই রিট আবেদনে একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটে আরও বলা হয়, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্বপালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলাবিধানের এই দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের উপড় নাস্ত ছিল। কিন্তু ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলাবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যাস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এই বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

রিটের যুক্তিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। ১১৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এই মৌলিক কাঠামো বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির বাস্তবায়ন কার্যত আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে। পঞ্চম সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে। এবং পঞ্চদশ সংশোধনীতে ১১৬ এর বিধান বহাল রাখা হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। পৃথক সচিবালয় না থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অধন্তন আদালতের উপড় আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণের কারণে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাগণ স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারছেন না।

শিশির মনির জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। ১১৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এ মৌলিক কাঠামো বিনষ্ট করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির বাস্তবায়ন কার্যত আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে। পঞ্চম সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে ১১৬ এর বিধান বহাল রাখা হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। পৃথক সচিবালয় না থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অধস্তন আদালতের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণের কারণে বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারছেন না বলে জানান শিশির মনির।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির ৫ কর্মসূচির ঘোষণা, নেবে মতামত ও পরামর্শ

‘ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে বিএনপি’

ড. খলিলের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, মন্তব্যে চীনের প্রতিবাদ

জাকাতের বিধান ও সমকালীন মাসায়েল নিয়ে নতুন গ্রন্থ ‘জাকাত’

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প 

নির্বাচনের ছুটি পাবেন না যারা

চেকপোস্টে গুলি উদ্ধার, পরে আইনজীবীর বাসায় মিলল অবৈধ পিস্তল

তাদের প্রটোকল বিএনপির চাইতে ৩ গুণ করে দিন : তারেক রহমান

বিশ্বকাপ বয়কট করলে যে ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশের

বিপথগামীর জন্য কারাগার হবে সংশোধনাগার : কারা মহাপরিদর্শক

১০

বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় শাবিপ্রবি ভিসি প্রোভিসি রেজিস্ট্রার

১১

নির্বাচনী প্রচারণা / সিলেটের দুই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

১২

শাকিব খানের শিডিউলে নেই রায়হান রাফি

১৩

উপদেষ্টা পরিষদে ১১ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও নীতি অনুমোদন

১৪

নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের যাত্রা শুরু

১৫

ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ : লুৎফুজ্জামান বাবর

১৬

অবসরে গেলেন মার্কিন মহাকাশচারী সুনিতা

১৭

মোসাব্বির হত্যা / জবানবন্দিতে অস্বীকৃতি, কারাগারে বিল্লাল

১৮

১২ ঘণ্টা পর রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল শুরু

১৯

কাকে ভোট দেওয়া উচিত, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

২০
X