কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৫, ০২:০০ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গণমাধ্যম এড়ানোর চেষ্টা

‘এভাবে যাওয়া যায় না, হাঁটব কীভাবে’ ক্রিকেটার নাসিরকে তামিমা

নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা। ছবি : কালবেলা
নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা। ছবি : কালবেলা

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে করা মামলা শুনতে বিচারক বিব্রত প্রকাশ করে অন্য আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালতে তাদের আত্মপক্ষ শুনানির দিন ধার্য ছিল। এদিন আদালতে হাজির হন নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা। এদিন বেলা ১১টা ৫১ মিনিটের দিকে শুনানি শেষে এজলাস কক্ষ থেকে বের হন নাসির-তামিমা। এরপরেই তারা গণমাধ্যমের ক্যামেরার মুখে পড়েন।

এ সময় তাদের মুখে কালো মাস্ক পরে ক্যামেরা থেকে মুখ লুকাতে দেখা যায়। স্ত্রীর সামনে একপ্রকার ঢাল হয়ে দাঁড়ান নাসির। এরপরও যখন গণমাধ্যমের ক্যামেরা থেকে নিস্তার নেই দেখে স্ত্রীর হাত ধরে জোরে হাঁটতে দেখা যায় নাসিরকে। গণমাধ্যমের ক্যামেরা থেকে তবুও রেহাই না পেয়ে আবার থমকে দাঁড়ান তারা দুজন। পরে আবার পিছনের দিকে স্ত্রীর হাত ধরে জোরে হাঁটতে থাকেন।

এ সময় নাসিরকে তার স্ত্রী তামিমা বলেন,

‘এভাবে যাওয়া যায় না। হাঁটব কীভাবে।’

এ সময় নাসিরের সঙ্গে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর বিরক্ত হন। পরে তামিমা সিএমএম আদালতের সিঁড়ি দিয়ে ও ক্রিকেটার নাসির সিজেএম আদালতের ভবনের দিকে দুজনকে দুদিকে যেতে দেখা যায়।

এদিকে এদিন নাসির-তামিমার পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে দুটি আবেদন করেন। এর মধ্যে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে একটি আবেদন করেন। কারণ হিসেবে বলেন, এ মামলার বিচার চলছে। এ অবস্থায় বাদীপক্ষের আইনজীবী গত ১৬ এপ্রিল মিডিয়াতে বলেন নাসির হোসেন ব্যভিচার করে তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে গেছেন। এবিষয়ে আদালতে বিচার চলছে। বিচার শেষে আদালত রায়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে গেছেন কিনা এবং ব্যভিচারের সম্পর্ক করেছেন কি না। একই সঙ্গে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পুরো অভিযোগ না শুনিয়ে সারসংক্ষেপ পড়ে শোনানোর আবেদন করেন।

এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, ‘আসামিপক্ষের আইনজীবী আগে বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন। আইন অনুযায়ী তিনি এখন আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করতে পারেন না।’

দুপক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত বলেন,‘উভয়পক্ষেরই আবেদন দেওয়ার অধিকার আছে। এটা একটা ব্যস্ত আদালত। এক মামলার শুনানি করতে যে ধৈর্য দরকার, এত সময় এই আদালতের নেই। এতে অন্য মামলায় ইফেক্ট পড়ে। আমি আসলে বিব্রতবোধ করছি। মামলাটা অন্য কোর্টে পাঠিয়ে দেই। এতে আপনারা কি নাখোশ হবেন?’তখন আইনজীবীরা বলেন, এতে তাদের আপত্তি নেই।

তখন আদালত বলেন, মামলাটা বদলি করে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পাঠিয়ে দিচ্ছি। সিএমএম মামলাটি একটা অন্য কোর্টে পাঠিয়ে দেবেন।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি একই আদালত ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিব্যুল্লাহ হিরু। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষের রিভিশন অবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। একই সঙ্গে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তার মামলার দায় থেকে অব্যাহতি থাকবেন বলে আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাম্মি ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উদ্ধার করা ১৬০ কেজি গাঁজা ‘বিক্রির’ অভিযোগ, ওসিকে প্রত্যাহার

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দেওয়ার দাবি নাহিদ ইসলামের

বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত বাদ পড়েছে যেসব দল

ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা

ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

কে জিতবে বিশ্বকাপ, জানালেন ইয়ামাল

দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

ছাত্রীনিবাসে নারী মেট্রনকে হত্যায় দারোয়ানের যাবজ্জীবন

পরীক্ষার্থী, কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান—এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সবই বেড়েছে

জন্মদিনে কেন কেক কাটেন না জয়া?

১০

পটুয়াখালীতে ৩০ কিমিজুড়ে এলাকাবাসীর অবস্থান

১১

হাসপাতালে নজরুল ইসলাম খান, ভিড় না করার অনুরোধ চিকিৎসকদের

১২

জার্মানির অ্যাপার্টমেন্টে আগুন, নিহত ৩

১৩

কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং জাহাজে আগুন, দগ্ধ ২ নাবিকের মৃত্যু

১৪

ঢাবি স্টেশনে আজ ৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের স্টপেজ

১৫

আব্দুল হাদীর জন্মদিনে আজ প্রচার হবে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র

১৬

২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন শুরু, আবেদন শেষ কবে

১৭

‘এক ছাতার নিচে মিলবে সাভারের সব ভূমিসেবা’

১৮

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ৬০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ

১৯

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও ইজারাবিহীন বাজারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ 

২০
X