কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সোহেল হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

সোহেল হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

রাজধানীর জুরাইনের ঋষিপাড়ায় ১১ বছর আগে সোহেল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার মামলায় রবিন ওরফে ট্যারা রবিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া এ মামলার দুই আসামি রিপন ও মাসুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. খোরশেদ আলম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিলন হোসেন জানান, রবিনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম দেওয়া হয়েছে। আর রিপন ও মাসুদকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আসামিদের মধ্যে কেবল রবিন গ্রেপ্তার ছিলেন। রায়ের সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রিপন ও মাসুদ পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এ ছাড়া এই মামলার অপর দুই আসামি ‘পিয়ারীর পোলা রবিন’ ওরফে রবিন-২ এবং তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন। তারা মামলার শুরু থেকে পলাতক।

সোহেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত’ হিসেবে বর্ণনা করে রায়ের পর্যবেক্ষণের বিচারক বলেন, পরিবার এমন হত্যাকাণ্ড প্রত্যাশা করে না। ইন্টারনেটের যুগে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বকে নাড়া দেয়। আদালত মনে করে, অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজায় প্রাপ্য।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সোহেল কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জে দর্জির দোকানে কাজ করতেন। ‘অসৎ সঙ্গে’ জড়িয়ে পড়ায় মা সুফিয়া বেগম তাকে প্রায় পাঁচ মাস ‘সেইফ কাস্টডি’তে রাখেন। ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে সে বের হয়। রবিনসহ অন্যরা সোহেলকে আবার ‘বিভিন্ন অপকর্মের’ প্রস্তাব দেয়। তবে সে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে হুমকি দিতে থাকে। ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় মসজিদের সামনে একটি খাবার হোটেলে ফুফাতো ভাই মিরাজের সঙ্গে বসে ছিলেন সোহেল। সেদিন বিকেল ৩টার দিকে রবিনসহ অন্যরা তাকে ডেকে ঋষিপাড়ায় একটি একতলা বাসার ছাদে নিয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, রবিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে কপালে গুলি করে। পেটে, বুকে, গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সুফিয়া বেগম ওই দিনই কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন কদমতলী থানার ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম।

২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জনের সাক্ষ্য শোনে। মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছেন আদালত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ব্রাজিলে যোগদান

ডাকাতি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’

বছরে কতবার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে নববী?

আত্মসমর্পণের পর পাঁচ আ.লীগ নেতা কারাগারে

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

কিউবায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

পরম আমাকে বিয়ে করেনি বলে তাদের ভীষণ দুঃখ: রাইমা

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

১০

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

১১

পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

১২

নতুন কিছু করার অঙ্গীকার শি-কিমের

১৩

চার বছর পর ফিরেই মোসাদ্দেকের ফিফটি

১৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

১৫

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান সাময়িক বরখাস্ত

১৬

রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

১৭

মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

১৮

ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন গ্রেপ্তার সেই ৬১ আইনজীবী 

১৯

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন কোর্স বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন’ : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

২০
X