কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৭ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কোন আদালতে লোহার খাঁচা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট 

হাইকোর্ট। ছবি : সংগৃহীত
হাইকোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

আদালত কক্ষে লোহার খাঁচা বসানো কেন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২ ও ৩৫ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে ঘোষণা করা হবে না এবং কেন লোহার খাঁচার পরিবর্তে কাঠগড়া পুনঃস্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হবে না এই মর্মে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। কোন কোন আদালতে এই ধরনের লোহার খাঁচা বিদ্যমান আছে ৬০ দিনের মধ্যে আইন সচিবকে রিপোর্ট দিতে বলেছেন আদালত।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি বিচারিক আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে লোহার খাঁচা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে ১০ আইনজীবী রিট করেন।

বিচারিক আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরাতে গত বছরের ১৬ অক্টোবর আইনসচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী।

নোটিশ পাওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে লোহার খাঁচা সরাতে অনুরোধ জানানো হয়। তা না হলে রিট করে আইনি প্রতিকার চাওয়া হবে বলে আইনি নোটিশ উল্লেখ করা হয়েছিল।

নোটিশের জবাব না পেয়ে ১০ আইনজীবী আজ রিট করেন। রিট আবেদনকারী ১০ আইনজীবী হলেন—জি এম মুজাহিদুর রহমান, মোহাম্মদ নোয়াব আলী, সাদ্দাম হোসেন, আবদুল্লাহ সাদিক, মিজানুল হক, মুজাহিদুল ইসলাম, মেসবাহ উদ্দিন, মো. জোবায়দুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও সাজ্জাদ সারোয়ার।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির বলেন, দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের লোহার খাঁচা অতীতে ছিল না। বর্তমানে প্রায় শতাধিক আদালতে এই ধরনের খাঁচা বিদ্যমান, যার সিংহভাগ ঢাকায় অবস্থিত। এ ধরনের খাঁচা ব্যবস্থা সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কারও সঙ্গে নিষ্ঠুর-অমানবিক আচরণ করা যাবে না। অথচ, এই খাঁচা ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও বর্বর আচরণ করা হচ্ছে।

রিট আবেদনকারীদের এই আইনজীবী আরও বলেন, সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ, নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদসহ অন্যান্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দলিল এই ধরনের আচরণ অনুমোদন করে না। অন্ধকার যুগে মানুষকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হতো। এই ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ করা হতো। বর্তমানে নিম্ন আদালতে এই খাঁচা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে। এমনকি জামিনে থাকা আসামিদের হাজিরার জন্যও এই খাঁচা ব্যবহার করা হয়। তাদের এই খাঁচায় ঢোকানো হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের সময়ও জামিনে থাকা আসামিদের খাঁচায় ঢুকিয়ে রাখা হয়।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, আদালতকক্ষে লোহার খাঁচা স্থাপনের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, ইতিমধ্যে স্থাপিত লোহার খাঁচা অপসারণ করে কাঠের ডক কেন প্রতিস্থাপন করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।

যেসব আদালত ও ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের লোহার খাঁচা স্থাপন করা হয়েছে, তার একটি তালিকা হাইকোর্টে দাখিলের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে রিটের প্রার্থনায়।

রুল হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনে থাকা আসামিদের আদালতকক্ষে লোহার খাঁচায় না ঢোকানোর জন্য রিটের প্রার্থনায় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, কুড়িগ্রামে ডিভাইসসহ আটক ১০

বিএনপি-জামায়াত কি জাতীয় সরকার গঠন করবে?

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক

ঢাকায় তুরস্কের ভিসা আবেদন গ্রহণের সময়সূচি ঘোষণা

মুগ্ধতায় শায়না আমিন

নির্বাচনের আগে পে স্কেল দেওয়া সম্ভব কি না, জানালেন গভর্নর

এবার মাদুরোকে নিয়ে মুখ খুললেন এরদোয়ান

টাঙ্গাইলের ৩ কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল পরিহারের অনুরোধ

বিয়ে করলেন পার্থ শেখ

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নির্দেশনা দিয়ে রেজা পাহলভির ভিডিওবার্তা

১০

নির্বাচনে পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে : প্রেস সচিব

১১

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণ জানাল তিতাস

১২

দেড় কোটি টাকার সেতু যখন ভোগান্তির কারণ 

১৩

কুমিল্লায় বাসে আগুন, নিহত ৪

১৪

যশোরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু

১৫

ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরখাস্ত

১৬

জবি ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক সহযোগিতায় ছাত্রদলের হেল্প ডেস্ক

১৭

তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে বিতর্কে বিসিবি পরিচালক

১৮

শৈত্যপ্রবাহ আর কয়দিন থাকবে, জানাল আবহাওয়া অফিস

১৯

হকি-কাবাডি-অ্যাথলেটিকসে সোনার পর এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জয়িতা

২০
X