বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪, ০৬:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ট্রেন থামিয়ে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

ট্রেন থামিয়ে আন্দোলনে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা
ট্রেন থামিয়ে আন্দোলনে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা

চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সর্বস্তরের ছাত্রসমাজ।

বুধবার (৩ জুলাই) দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রেললাইনে চলমান ট্রেন অবরোধ করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

কোটাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে সমবেত হন বাকৃবির প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কে আর মার্কেট হয়ে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালীন ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই, কোটা প্রথার কবর দে’-সহ নানা স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে মুক্তমঞ্চের সামনে একটি প্রতিবাদ সভা করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রতিবাদ সভা শেষে সেখান থেকে আব্দুল জব্বার মোড় পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি আব্দুল জব্বার মোড়ে পৌঁছালে ওই সময় ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন আটকে রেখে রেললাইন অবরোধ করে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় একঘণ্টা ধরে রেললাইন অবরোধ করে রাখার পরে আবার ট্রেন চলাচল সচল হয়।

আন্দোলন চলাকালীন মেডিসিন বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মাশশারাত মালিহা বলেন, ২০১৮ সালের ছয় বছর পরে একই কোটা নিয়ে আবার আন্দোলনে নামতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এটাকে কি দেশের উন্নতি বলা যায়? ঘুরে ফিরে আমরা ছয় বছর পিছিয়েই রইলাম। মুক্তিযোদ্ধা কোটা যদি থাকবেই তাহলে ৭১-এ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণত্যাগ অর্থহীন হয়ে যায়। আমরা আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের প্রায়ই বলে থাকি যে তাদের তো মুক্তিযোদ্ধা কোটা আছে। চাকরি পেতে তাদের তো মেধার দরকার নেই। এর মাধ্যমে কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরই প্রতিনিয়ত অবমাননা করা হচ্ছে। আমরা দেশের বীরদের অবশ্যই সম্মান করব। তবে কোনো ধরনের কোটা বৈষম্য আমরা মেনে নেব না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ, চাকরিতে নিয়োগ এবং অন্য সব প্রতিযোগিতার জায়গায় আমরা মেধার শতভাগ মূল্যায়ন চাই।

এ সময় অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আজীবন সর্বোচ্চ সম্মানের যোগ্য। তবে তাদের সম্মান দেওয়ার নাম করে কোটা প্রথার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে চরম বৈষম্যের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলার ছাত্রসমাজ এটি কিছুতেই মেনে নেবে না। ৪ জুলাইয়ে কোটার বিষয়ে যে রায় হবে সেখানে আমরা মেধাবীদের জয় দেখতে চাই। আর তা না হলে দেশের সমগ্র ছাত্রসমাজ একযোগে রুখে দাঁড়াবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়ায় আর কোনো বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। পরদিন থেকেই ওই রায়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্রমিক নেতাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

টাকা দিয়ে এবার কোনো নির্বাচন হবে না: ড. মোবারক

বদলি নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মানতে হবে যেসব নিয়ম

বন্ধ হচ্ছে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দুবাইয়ে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের প্রথম স্বর্ণের সড়ক

চাকরি দিচ্ছে বিকাশ, আবেদন করুন আজই

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীকে অপহরণ করে মারধর

ইতালিতে জরুরি অবস্থা জারি

মাথায় আঘাত পেলে যা করবেন, কখনই বা ডাক্তারের কাছে যাবেন

১০

এবার আইসিসি থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ

১১

চট্টগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের ৯ কর্মী আহত

১২

দেশে আমার সকল সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে : মির্জা ফখরুল

১৩

সেপটিক ট্যাংকে গৃহবধূর লাশ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৪

বরিশালে ২৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৫

খুশকি দূর করুন সহজ ঘরোয়া যত্নে

১৬

ঢাকার শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

১৭

রাইস কুকার না মাল্টি কুকার? কোনটা আপনার জন্য ভালো বুঝে নিন

১৮

বিএনপির আরও ৬ নেতাকে বহিষ্কার

১৯

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

২০
X