জবি প্রতিনিধি,
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়ে জবির সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর

আহত শিক্ষার্থী কামারুজ্জামান কায়েস। ছবি : কালবেলা
আহত শিক্ষার্থী কামারুজ্জামান কায়েস। ছবি : কালবেলা

ভিডিও করার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের কামারুজ্জামান কায়েসকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শ্রীকান্ত বাউল।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জবির নোঙর বাসে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শ্রীকান্ত শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কায়েস ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে চিকিৎসারত আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন অর্থনীতি বিভাগ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মৃদুল হাসান। মৃদুলের বিরুদ্ধে এর আগে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হুমকি-ধমকি ও হেনস্থার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মৃদুল ক্যাম্পাসে আসলে তাকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ আরো অনেকেই তাকে ক্যাম্পাসে ঘিরে ধরেন।

এসময় আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শ্রীকান্ত ছাত্রলীগ নেতা মৃদুলকে শেল্টার দেয়। মৃদুলকে ফুলের টোকাও দিলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করার ও দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন। শ্রীকান্ত ছাত্রলীগের ওই নেতার পক্ষ নিলে সেখানে আরো কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী জড়ো হয়। এতে শ্রীকান্তকে ‘দালাল’ বলে অভিহিত করেন শিক্ষার্থীরা।

এতে অভিযুক্ত শ্রীকান্ত উত্তেজিত হলে সমাধানে জন্য জবি শিক্ষক লাউঞ্জে মীমাংসার জন্য বসেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দীন। এ সময় ভুক্তভোগী কায়েস মোবাইলে ভিডিও শুরু করলে তার উপর তেড়ে আসেন শ্রীকান্ত।

পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের নোঙর বাসে কায়েসকে মারধর করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসীব বলেন, কায়েস ভিডিও করায় তার উপর উত্তেজিত ছিল শ্রীকান্ত। কায়েস সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরও শ্রীকান্ত তাকে খুঁজতেছিল। পরে জানতে পারি, কায়েসকে বাসে মারা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কায়েস বলেন, আমি বাসে চড়ে মুরগীটোলা যাচ্ছিলাম। শ্রীকান্ত বাসের ভিতরে আমাকে জিজ্ঞেস করে- কেন তুই ভিডিও করলি? তুই ভিডিও করার কে? আমি বলি, ভিডিও এমনিতেই করছিলাম।

পরক্ষণই সে আমাকে মারধর করে। চোখে কিল ঘুসি শুরু করেন। কপাল কেটে যায়। বাসের সিনিয়ররা আসা শুরু করে। তাদের উপরও সে ক্ষিপ্ত হয়। পরে আমি ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যাই। এখন চিকিৎসা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শ্রীকান্ত বলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ আমি মারছি। সে ও আমাকে মারছে। আমার ভুল ছিল, আমি তার হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিতে গিয়েছি। কিন্তু সে দিতে চাচ্ছিল না। পরে সে আমাকে ধাক্কা দেয়। আমিও তাকে জোরে ধাক্কা দেই। সে পড়ে যায়। সে আঘাত করলে আমিও তাকে আঘাত করি। তার কপাল কেটে যায়। পরে মুরগীটোলায় বাস থামিয়ে বড় ভাইয়েরা ঝামেলা মিটিয়ে দেয়।

মৃদুলের পক্ষে গিয়ে কথা বলার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগ করতাম না। কিন্তু অনেক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। আমি দেখেছি, মৃদুল কোনো উগ্র কাজে ছিল না। আমি ছাত্রদের বলেছি, যদি সে অন্যায় করে তার বিচার হবে। অন্যত্থায় তার হাতে ফুলের টোকাও দেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, একটা ছেলেকে মারার বিষয় টা জেনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর নেই। প্রক্টর আসলে বিচার পক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়ে সমাধান করা যাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শীত আসছে কি না, জানাল আবহাওয়া অফিস

বিএনপি-জামায়াতের তুমুল সংঘর্ষ

ধর্মেন্দ্র পাচ্ছেন মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ

হজের কার্যক্রম নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন ধর্ম উপদেষ্টা

বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

বিএনপির দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ

একই দলের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মামা-ভাগনে

নির্বাচিত হয়ে সরকারে গেলে সবার আগে শান্তি ফেরাব : মির্জা ফখরুল

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

নির্বাচনে বিএনপিকে দুটি চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে : রবিউল আলম

১০

স্বামী জামায়াত আমিরের জন্য ভোট চাইলেন ডা. আমেনা বেগম

১১

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য

১২

নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

১৩

প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর

১৪

আরও ১১ নেতাকে দুঃসংবাদ দিল বিএনপি

১৫

সুখবর পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান

১৬

স্থায়ী পুনর্বাসন ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি আমিনুল হকের

১৭

রবিনের ধানের শীষেই আস্থা সাধারণ ভোটারদের 

১৮

হাদি হত্যা / ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল ফের রিমান্ডে 

১৯

বেকার সমস্যা সমাধানে বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে বিএনপি : মিন্টু

২০
X