শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বাসে ভ্যাহিক্যালস ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) প্রযুক্তি চালু করা হয়।
এ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাস কোথায় আছে, কখন ছেড়েছে, স্টপেজে আসতে কত সময় লাগবে শিক্ষার্থীরা তা রুমে বসেই দেখতে পেত। ফলে একদিকে যেমন তাদের সময় সাশ্রয় হচ্ছিল তেমনি ভোগান্তিও লাঘব হচ্ছিল । সেসময় পরিবহন পুলে এমন প্রযুক্তি চালুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমহল থেকে ব্যাপক সাড়া মেলে।
অনেকেই বলেছিলেন, এ প্রযুক্তি চালু করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটালাইজেশনের দিকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু ভিটিএস চালুর বছর শেষ না হতেই এ সেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নয়টি বাসের তিনটিতে নড়বড়ে আবস্থায় ভিটিএস সচল থাকলেও বাকী ছয়টিতে বিগত ছয়-সাত মাস ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা ভিটিএস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সঠিকভাবে এ প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষন করতে না পারলে শুধুশুধু বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারের অর্থের অপচয় হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রহরী থেকে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৯টি বাস এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অ্যাম্বুলেন্সসহ মোট ১৯টি গাড়িতে ভ্যাহিক্যালস ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) চালু করেন। তবে এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বাস-১ এবং এভেঞ্জা গাড়িটি দীর্ঘ দিন নষ্ট হয়ে আছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভিটিএস সেবা চালু হওয়ার পর প্রথম চার-পাঁচ মাস সেবার মান ভালো ছিল। তখন সবগুলো বাসের ট্র্যাকার চালু ছিল। যেকোন সময় বাসের লোকেশন ট্র্যাক করা যেতো। কিন্তু মার্চ মাস থেকে ভিটিএসে সমস্যা শুরু হয়। তখন থেকে ৯টি বাসের মধ্যে মাত্র ৩-৪টি বাসের লোকেশন ট্র্যাক করা যায়। বাকি বাসগুলোর ট্র্যাকার বন্ধ দেখায়।
সরজমিনে গত ৩১ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের ৩টি বাস এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ৬টি গাড়িতে ভিটিএস চালু থাকতে দেখা গিয়েছে। এই গাড়িগুলোতে শুরু থেকেই ভিটিএস সচল আছে বলে জানা যায়।
ভিটিএস প্রযুক্তির এমন অবস্থা নিয়ে ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ মাহমুদ রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে কালবেলাকে বলেন, ভিটিএস চালুর পর এর কিছু সুফল আমরা পেয়েছি। আগের মত অহেতুক দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না, বাস কখন স্টপেজে আসবে সেটা দেখেই বের হতাম। কিন্ত বর্তমানে ৯টি বাসের অধিকাংশের ট্র্যাকিং সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে বাসের জন্য আগের মত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রতিভা কুন্ডু বলেন, ভিটিএসটা এখন নামে মাত্রই আছে। এ সিস্টেমের শুরু থেকেই ঝামেলা ছিল। বাস থাকত এক জায়গায় লোকেশন দেখাতো অন্য জায়গায়। এরপর এক এক করে ভিটিএসগুলো বন্ধ হতে শুরু করে কিন্তু এগুলো সমাধান করার পদক্ষেপ পরিবহন পুল নেননি। যদি রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক করে না করা যায় তাহলে এটা চালু করে লাভ হলো কি। এর পেছনে খরচ করা হাজার হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারতো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ পুলের প্রশাসক ড. রাহিদুল ইসলাম রাহি বলেন, কয়েকটা গাড়ির ভিটিএসের ডিভাইসে সমস্যা হয়েছে। আমরা এ সমস্যার কথা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছি। সমস্যাটি সমাধান করার জন্য তারা এই সপ্তাহে লোক পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। আশা করি তারা আসলে সবগুলো গাড়ির ভিটিএস পুণরায় সচল হবে।
মন্তব্য করুন