রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলের ছাদ ধসে ৯ শ্রমিক আহত হয়েছেন। হলটি নির্মাণের টেন্ডার পায় রূপপুর বালিশ-কাণ্ডের আলোচিত ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরের এ ঘটনা ঘটে। তাহলে কী নতুন বালিশ কাণ্ডের সাক্ষী হতে যাচ্ছে রাবি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ করায় এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ ও কাজের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গুরুতর আহত তিনজন হলেন- গাইবান্ধার আজাদুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিফাত ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীর শিহাব। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জুন মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পে ৫১০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের জুনে এসব কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ প্রকল্পের অন্যতম একটি হচ্ছে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হল নির্মাণ। সম্প্রতি ১০ তলা ভবনের মূল কাজ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তার নিচের অংশে অডিটোরিয়াম ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিম ঢালাই করা হয়। এগুলো লোহার নির্মিত শাটারিং বা ফর্মায় রাখা ছিল। এসবের মধ্যেই গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ছাদ ঢালাই শেষ করতেই বিমের শাটারিং ভেঙে ধসে পড়ে।
এ ঘটনায় আহত শ্রমিক মো. রাসেল বলেন, আমরা ৯ জন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলাম। ঢালাই শেষে ফিনিশিং দেওয়া হয়। হঠাৎ বিকট শব্দে বিমের শাটারিং ভেঙে পড়ে। এরপর আমরা নিচে পড়ে যাই। সবাই কমবেশি আহত হয়েছি।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ওহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকে নেই।
এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, হল নির্মাণের কাজ হচ্ছিল নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। বিম ঢালাইয়ের পর শক্ত ও শুকানোর জন্য যে সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা দেওয়া হয়নি। এ কারণে ঢালাই দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাদ ধসে গেছে।
নিম্নমানের সামগ্রীতে নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্সের উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল জামান বলেন, কেন ভেঙে পড়েছে বুঝতে পারছি না। এভাবে আগেও ঢালাইয়ের কাজ করেছি। সোমবার বিম ঢালাই করেছি, যেন একটু সাপোর্ট পায়। গতকাল ছাদ ঢালাই করছিলাম। কাজ শেষ করে নামার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমের শাটারিং ভেঙে ধসে যায়। কাজটির মেয়াদ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আমরা মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাজের মান কেমন ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
প্রকল্প পরিচালক খন্দকার শাহরিয়ার রহমান বলেন, আমি ঢাকায় আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।
সার্বিক বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আসল কারণ জেনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন