

তিন দশকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবন উদ্যাপনের এক আবেগঘন সন্ধ্যায় রানী মুখার্জি ফিরে তাকালেন তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতিতে। ইয়াশ রাজ ফিল্মস আয়োজিত এক বিশেষ আলাপচারিতায় করণ জোহরের সঙ্গে বসে রানি ভাগ করে নেন সিনেমায় তার যাত্রার শুরুর দিনগুলোর গল্প, সাফল্য-সংগ্রামের মুহূর্ত এবং পর্দার আড়ালের মানুষ রানী মুখার্জির নানা অনুভূতি। ‘মারদানি ৩’ মুক্তির আগমুহূর্তে আয়োজিত এই ৮৪ মিনিটের কথোপকথন যেন হয়ে ওঠে অভিনেত্রীর জীবনের এক আন্তরিক আত্মকথন।
তবে সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর মুহূর্ত আসে অনুষ্ঠানের শেষভাগে। করণ জোহর জানান, তিনি রানী কন্যা আদিরার লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনাবেন, যা সম্ভবত এই প্রথমবার প্রকাশ্যে শোনা হলো। মেয়ের লেখা সেই ব্যক্তিগত চিঠি রানী মুখার্জিকে আবেগে আপ্লুত করে তোলে।
চিঠিতে আদিরা সরাসরি মাকে সম্বোধন করে লেখে, ‘তুমি পৃথিবীর সেরা মা।’ মা-মেয়ের একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য আনন্দ, হাসি-কান্নার স্মৃতির কথা তুলে ধরে সে জানায়, রানী শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ মা-ও। আদিরা মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অভিনয়, নাচ ও আঁকার দক্ষতার কথা যেমন উল্লেখ করে, তেমনি মায়ের স্বল্পমেজাজের কথাও মজার ছলে তুলে ধরে।
চিঠির প্রতিটি লাইনে ফুটে ওঠে রানী মুখার্জির পর্দার বাইরের এক ভিন্ন রূপ— যেখানে তিনি একজন তারকা নন, বরং একজন মা, একজন আশ্রয়, একজন অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে মায়ের মতোই দয়ালু, আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিমান হয়ে ওঠার স্বপ্নের কথা জানিয়ে আদিরা চিঠির শেষে মা-মেয়ের অটুট বন্ধনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র ও স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া রানী মুখার্জির এই ব্যক্তিগত মুহূর্ত যেন মনে করিয়ে দেয়— রুপালি পর্দার উজ্জ্বলতার আড়ালেও রয়েছে ভালোবাসা, পরিবার ও আবেগে গড়া এক নীরব কিন্তু শক্ত ভিত। আর সেই ভিতের কেন্দ্রেই রয়েছেন রানি— একজন অভিনেত্রী, আর তার চেয়েও বড় করে, একজন মা।
এদিকে ‘মারদানি’ সিক্যুয়ালে রানী মুখার্জি প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। এবার মারদানির তৃতীয় পর্বেও সেই সাহসী পুলিশ অফিসার হয়ে দর্শকের সামনে আসছেন এই তারকা। ইয়াশ রাজ ফিল্মস-এর এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন অভিরাজ মিনাওয়ালা এবং প্রযোজনা করেছেন আদিত্য চোপড়া। এটি মুক্তি পাবে ৩০ জানুয়ারি।
মন্তব্য করুন