কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করা এক বিষয় নয়, বলছে গবেষণা

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়া আর মোবাইল যোগাযোগের এই যুগে মানুষ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। মুহূর্তেই কথা বলা যাচ্ছে, ছবি বা খবর আদান-প্রদান করা যাচ্ছে। তবু একাকিত্ব এখনো একটি খুব সাধারণ এবং অনেক সময় ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা। প্রশ্ন হলো, কখন নিজের মতো করে একা থাকা একাকিত্বে রূপ নেয়।

নতুন একটি গবেষণা বলছে, একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করা আসলে আমাদের ধারণার মতো একে অপরের সঙ্গে এতটা জড়িত নয়।

গবেষকরা বলছেন, মানুষের সুস্থতার জন্য সামাজিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একাকিত্ব আর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কাছাকাছি হলেও বিষয় দুটি এক নয়। গবেষণার প্রধান লেখক যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড সাবারা জানান, এই দুই ধারণাকে আলাদা করে বোঝা খুব জরুরি।

এই গবেষণায় প্রথমেই দেখা হয়েছে মানুষ বাস্তবে কতটা সময় একা কাটায়। এজন্য ব্যবহার করা হয় একটি বিশেষ পদ্ধতি, যার নাম ইলেকট্রনিকালি অ্যাকটিভেটেড রেকর্ডার বা ইএআর। এটি একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করে। প্রতি ১২ মিনিট পরপর ৩০ সেকেন্ডের শব্দ রেকর্ড করে অ্যাপটি। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কেউ ফোনে কথা বলছে কি না, গাড়ি চালাচ্ছে, টিভি দেখছে, নাকি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছে।

গবেষণায় ২৪ থেকে ৯০ বছর বয়সী ৪০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে দুই থেকে ছয় দিন পর্যন্ত এই অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। আগের কয়েকটি গবেষণার তথ্য একত্র করে বড় পরিসরে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে বয়সভিত্তিক একটি স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। তরুণদের ক্ষেত্রে একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করা প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কিন্তু বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক অনেক বেশি।

গবেষকরা জানান, ৬৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে একাকিত্বের সঙ্গে সামাজিকভাবে একা থাকার একটি শক্ত সম্পর্ক দেখা গেছে। এই বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে একা থাকা আর একাকিত্ব একসঙ্গে দেখা যায়। অথচ পুরো গবেষণার সব অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে এই মিল মাত্র ৩ শতাংশ।

এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক কমে আসে এবং যেগুলো থাকে, সেগুলো অনেক বেশি গভীর ও অর্থবহ হয়। এসব সম্পর্ক হারালে বা দুর্বল হলে বয়স্ক মানুষ বেশি একাকিত্ব অনুভব করেন। অন্যদিকে তরুণরা নানা প্রয়োজনে সামাজিক মেলামেশা করে, কিন্তু সব সম্পর্কই যে গভীর হবে এমন নয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে মানুষ তাদের সময়ের প্রায় ৬৬ শতাংশ একা কাটায়। তবে যারা ৭৫ শতাংশের বেশি সময় একা থাকে, তাদের মধ্যে একাকিত্বের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যারা খুব কম সময় একা থাকে, তাদের মধ্যেও কিছুটা বেশি একাকিত্ব দেখা গেছে। গবেষকরা মনে করছেন, যারা একাকিত্বে ভোগে, তারা সেটি কাটিয়ে উঠতে ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করার চেষ্টা করতে পারে।

ভবিষ্যতে গবেষক ম্যাথিয়াস মেহল একটি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যার নাম সোশ্যালবিট। এটি একটি স্মার্টওয়াচ অ্যাপ হবে, যা প্রতিদিন কতবার ব্যবহারকারী অন্যদের সঙ্গে কথা বলছে তা হিসাব করবে। দীর্ঘ সময় একা থাকলে ব্যবহারকারীকে হালকা ইঙ্গিত দেবে। স্ট্রোক থেকে সেরে ওঠা রোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে, কারণ এই গোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা একটি বড় সমস্যা।

একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে অনেকেই নীরব ঘাতক বলে থাকেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে যত বেশি গবেষণা হবে, তত ভালোভাবে সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তবে এই গবেষণা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়। একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করা সবসময় একই জিনিস নয়।

এই গবেষণা দেখায়, নিজের মতো করে সময় কাটানো সব সময় খারাপ নয়। অনেকের জন্য একা থাকা স্বস্তিরও হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় সামাজিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে, একাকিত্বের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সুস্থ মানসিক জীবনের জন্য প্রয়োজন অর্থবহ সামাজিক সম্পর্ক এবং নিজের একা থাকার সময়ের প্রতি সচেতন দৃষ্টি। একা থাকা ও একাকিত্বের পার্থক্য বুঝতে পারলেই আমরা এই নীরব সমস্যার সমাধানে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারি।

সূত্র : iflscience

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাতে স্টেডিয়ামে গাঁজা সেবন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

পরশুরামে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বিডার উদ্যোগে বাস্তবায়নের পথে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ

কমনওয়েলথ গেমসে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা

রেল অবরোধে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, দুঃখ প্রকাশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের

তিন প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক চেয়ারম্যান ও নির্বাহী সচিব নিয়োগ দিল সরকার

গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে চালকরা

জোড়াতালি দিয়ে চলছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা

চকরিয়ায় বন্যায় সড়ক বিধ্বস্ত, ক্ষতি প্রায় ৩২ কোটি টাকা

চাকরি ফিরে পেলেন ‘টিপকাণ্ডে’ বহিষ্কৃত সেই পুলিশ সদস্য

১০

ইরানের বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ সামরিক হামলা’ বিবেচনায়: ট্রাম্প

১১

লেবাননে প্যারামেডিকদের ওপর ইসরায়েলের ড্রোন হামলা

১২

ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের নিহত ৩

১৩

নিরাপত্তার জেরে ইরান থেকে দূতাবাসকর্মীদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাজ্য

১৪

দেশে চাঁদাবাজি-দুর্নীতি আগের চেয়েও বেড়েছে: গাজী আতাউর

১৫

জলাবদ্ধ সড়কে হাঁস ছেড়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ 

১৬

জাবি চিকিৎসা কেন্দ্র উন্নয়নে প্রশাসনের ৫ সিদ্ধান্ত

১৭

মেসি-ইয়ামালদের মহারণ কবে? জানা গেল সম্ভাব্য সময়

১৮

জাসদ-ছাত্রলীগ থেকে জামায়াত, এক ভিডিওতে সব হারালেন এমপি নজরুল  

১৯

হাতিরঝিলে শিশুসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, উদ্ধার করলেন আনসার সদস্য

২০
X