

সন্তানের অভ্যাস তৈরি হয় খুব ছোট বয়স থেকেই। বিশেষ করে ঘুমানোর আগের সময়টা শিশুর মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।
এই সময়টায় যদি মোবাইল বা ট্যাবের বদলে কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তাহলে শিশুর মনোযোগ, কল্পনাশক্তি ও শেখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই ঘুমের সময়টাকে সন্তানের জন্য আরও উপকারী করে তোলা সম্ভব।
নিচে ঘুমোনোর আগে এমন ৪টি কাজের কথা বলা হলো, যা সন্তানের বুদ্ধি ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।
গল্প শোনান : ঘুমানোর সময় মোবাইল বা ট্যাব ব্যবহার না করাই ভালো। এসব ডিভাইসের আলো শিশুর চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তার বদলে গল্পের বই বেছে নিন। আড়াই থেকে তিন বছর বয়স হলেই শিশুকে গল্প শোনানোর অভ্যাস শুরু করা যায়। গল্প শুনলে শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ে এবং ভাষা শেখাও সহজ হয়।
বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন : শিশু যখন নিজে নিজে পড়তে শেখে, তখন ঘুমানোর আগে তাকে বই পড়তে উৎসাহ দিন। শুরুতে ছোট গল্পের বই হতে পারে। এতে ধীরে ধীরে বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হবে। ছোট বয়স থেকেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে বড় হয়ে শিশুর মোবাইলের প্রতি আগ্রহ কমে যাবে।
শিশুর সঙ্গে কথা বলুন : অনেক বাবা-মা ছোট সন্তানের সঙ্গে একসঙ্গেই ঘুমান। এই সময়টায় সারাদিনের গল্প করা যেতে পারে। আজ কী কী করল, স্কুলে কেমন কাটল, আগামী দিনের পরিকল্পনা এসব নিয়ে হালকা কথা বলুন। এতে শিশুর ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বাড়ে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
ধ্যান বা শ্বাসের অনুশীলন করান : ঘুমানোর আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা ধ্যান বা শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করানো যেতে পারে। এতে শিশুর মন শান্ত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং চিন্তা করার ক্ষমতা উন্নত হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস থাকলে পড়াশোনায় মন বসতেও সুবিধা হয়।
সন্তানের বুদ্ধি বাড়াতে শুধু পড়াশোনা বা খেলাধুলাই যথেষ্ট নয়। ঘুমের আগের সময়টা কীভাবে কাটছে, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। গল্প শোনা, বই পড়া, একসঙ্গে কথা বলা এবং ধ্যানের মতো সহজ অভ্যাস ছোট বয়স থেকেই গড়ে তুললে শিশুর মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে তা দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দেয়। ছোট পরিবর্তনই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
সূত্র : এই সময় অনলাইন
মন্তব্য করুন