

দেশের বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে কাঁধ, কোমর ও মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যায় ভুগছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর আফতাব নগরের বিএলসিএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। জানা গেছে, সেখানে ডা. ইয়াকুব আলীর তত্ত্বাবধানে তার স্টেমসেল অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে।
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে মিল্টন খন্দকার বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে কাঁধ ও কোমরে ব্যথা অনুভব করছি। মেরুদণ্ডেও গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি।'
তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত-অনুরাগী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে অপারেশনের পর তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বজনরা।
গীতিকার হিসেবে মিল্টন খন্দকারের অবদান বাংলা গানের ভাণ্ডারে অনন্য। পাশাপাশি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত। তার লেখা গান গেয়ে দেশের বহু শিল্পী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।
তার সৃষ্ট অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘আকাশেতে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটারে’, ‘রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা’, ‘পাথরে ফুল ফোটাবো শুধু ভালোবাসা দিয়ে’, ‘তোমরা কাউকে বলো না, এই তো প্রথম একটি মেয়ে আমার প্রেমে পড়েছে’, ‘এত ছোট জনম নিয়া জগতে আসিয়া, মেটে না মেটে না স্বাদ ভালোবাসিয়া’, ‘আমি যে তোমার কে, কাছে এসে নাও জেনে নাও’ এবং ‘অঞ্জনা, হয়তো এ গান তুমি শুনছো না’।