কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩১ পিএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গ্যালাপের জরিপ

মনমরা ও আনন্দহীন অবস্থায় জীবন কাটে বাংলাদেশিদের

ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

আপনার দিনটি কেমন কাটছে? জীবনে কোনো আনন্দ আছে কি? না কি প্রতিদিনই মনে হয় সব কিছু নিস্তেজ, বিষণ্ন আর একঘেয়ে? এমনটাই যদি হয়, তাহলে আপনি একা নন। কারণ, গ্যালাপ গ্লোবাল ইমোশন জরিপ ২০২৪-এর তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই দিন কাটাচ্ছেন মনমরা ও আনন্দহীন অবস্থায়।

বাংলাদেশের ৮৩% মানুষ আনন্দহীন জরিপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ বলেছেন, তারা আগের দিন কিছু আনন্দদায়ক কাজ করেছেন বা নতুন কিছু শিখেছেন। বাকি ৮৩ শতাংশের জীবনে কোনো নতুন অভিজ্ঞতা বা আনন্দ ছিল না। একই চিত্র দেখা গেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে।

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকার দেশ সেনেগাল, যেখানে ৭৯ শতাংশ মানুষ আনন্দদায়ক কিছু করার কথা জানিয়েছেন। ভারতের ৫২ শতাংশ এবং চীনের ৫৯ শতাংশ মানুষও তাদের দিনগুলোকে ইতিবাচক ও আনন্দময় বলে উল্লেখ করেছেন।

সুখের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে

বাংলাদেশি মানুষের সুখের অভাবও এই জরিপে স্পষ্ট। গ্যালাপের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৫৬, যা বিশ্বের গড় মানের তুলনায় অনেক নিচে। আফগানিস্তান আরও নিচে, যেখানে এই স্কোর মাত্র ৩৮।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা আগের দিন শারীরিক কষ্ট, দুঃখ, উৎকণ্ঠা, ভয় বা রাগ অনুভব করেছেন কি না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

কেন এমন অবস্থা?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনধারায় ক্লান্তি, একঘেয়েমি এবং মানসিক চাপ এই পরিস্থিতির মূল কারণ। কাজের চাপে ব্যক্তিগত জীবন ব্যাহত হওয়া, সামাজিক অস্থিরতা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তাও মানুষকে বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এছাড়া, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা না থাকাও এই সমস্যাকে আরও গভীর করছে। মানুষ কাজের মধ্যে ডুবে থাকলেও, নিজের শখ বা আনন্দের দিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

বিশ্বব্যাপী প্রফুল্লতার চিত্র উজ্জ্বল, বাংলাদেশে বিপরীত

গ্যালাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশে আনন্দদায়ক কিছু করা বা শেখার হার বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে সেই হার প্রায় স্থবির। এটি শুধু মানসিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও একটি উদ্বেগের বিষয়।

উপায় কী?

বাংলাদেশের মানুষকে মনমরা অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো, কর্মজীবনে ভারসাম্য আনা এবং আনন্দময় কাজের সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র—সব জায়গায় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরিবারে সময় কাটানো, শখকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের মনের যত্ন নেওয়ায় জোর দিলে জীবনে আনন্দ ফিরে আসতে পারে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

বাংলাদেশের এই চিত্র হতাশাজনক হলেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে এই বিষণ্নতার অন্ধকার থেকে উত্তরণের পথ তৈরি হতে পারে। সুখী এবং আনন্দময় জীবনের জন্য প্রয়োজন মানসিক প্রশান্তি ও ইতিবাচক পরিবেশ।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষও যদি জীবনে আনন্দের ছোট ছোট মুহূর্ত তৈরি করতে পারে, তবে এই ধূসর ছবি রঙিন হতে সময় লাগবে না।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঋণ থেকে মুক্তির বিশেষ ৪ দোয়া

কোনো শিশু যেন বাংলা-ইংরেজি-গণিত শিক্ষায় পিছিয়ে না থাকে: ববি হাজ্জাজ

পলাশ মণি দাসের পরিচালনায় ‘কিপ্টুস আনলিমিটেড’

বন্যা-পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে স্বপ্ন

সাতক্ষীরা জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

স্কুলে ঢোকার পথ নেই, দুর্ভোগে সব শিশু শিক্ষার্থী

খল অভিনেতা হয়ে পর্দায় আসছেন সরকার রওনক রিপন

শ্বশুরবাড়ির পুকুরপাড়ে মিলল পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ

সার্ভেয়ার-কানুনগোদের ঘন ঘন বদলি নয়, একই কর্মস্থলে অন্তত ২ বছর রাখার নির্দেশ

শেষ আশ্রয়টুকুও গিলে খাচ্ছে ছোট ফেনী নদী

১০

মিসওয়াকের গুরুত্ব ইসলামে এত বেশি কেন?

১১

সলোমন দ্বীপপুঞ্জে স্বর্ণের খনিতে ধস

১২

হরমুজ প্রণালিতে ৬টি জাহাজ থামাল ইরান

১৩

বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল সিলেকশনে ‘মাটি’

১৫

এনসিপির পথসভার কাছে মিলল বোমাসদৃশ বস্তু

১৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনায় বসছে ইসি

১৭

উগ্র ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল বুরকিনা ফাসো

১৮

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ‘নয়াবাজার শাখা’ নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর

১৯

জুনিয়র এনটিআরের সিনেমায় ইউরোপিয়ান ধামাকা

২০
X