

সময় যত এগোচ্ছে, জীবন ততই দ্রুত হয়ে উঠছে। কাজের চাপ, প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, অনিয়মিত খাবার ও ঘুম- সব মিলিয়ে আমাদের শরীর ও মন দুটোর ওপরই প্রভাব পড়ছে। ২০২৬ সালে সুস্থ থাকতে হলে শুধু রোগমুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক - দুদিক থেকেই সুস্থ থাকার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
অনেকে মনে করেন, সুস্থ থাকতে হলে কঠিন ডায়েট, জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া বা ব্যয়বহুল চিকিৎসা দরকার। বাস্তবতা হলো, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর বিষয়গুলো অনেক সময়ই খুব সহজ। নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ভালো ঘুম, নিয়মিত নড়াচড়া এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ - এই অভ্যাসগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে।
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানো, দুশ্চিন্তা ও অনিয়মিত জীবনযাপন আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তাই নতুন বছরে নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা। এগুলো এমন হওয়া উচিত, যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায়।
এই লেখায় ২০২৬ সালে সুস্থ থাকার জন্য কিছু সহজ ও কার্যকর পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। খাবার, পানি, ঘুম, ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখানে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি চাইলে একসঙ্গে সব পরিবর্তন না করে, ধাপে ধাপে এগোতে পারেন। মনে রাখতে হবে - ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় সুস্থতার ভিত্তি তৈরি করে।
সুষম খাবার গ্রহণ করুন
সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি হলো স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও চর্বিমুক্ত প্রোটিন রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি পানীয় ও অপ্রয়োজনীয় চিনি কমিয়ে দিন।
ভালো চর্বি, যেমন - ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা আখরোট, তিসি বীজ, চিয়া বীজ ও চর্বিযুক্ত মাছ (যেমন স্যামন) থেকে পাওয়া যায়, সেগুলো খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উপকারী। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সময়মতো পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণভাবে নারীদের প্রতিদিন প্রায় ৯ কাপ এবং পুরুষদের প্রায় ১৩ কাপ তরল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর এই চাহিদা কমবেশি হতে পারে।
ভালো ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন
ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মানসিক ভারসাম্য ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো উচিত। ঘুমের পরিবেশ যেন শান্ত, অন্ধকার ও ঠাণ্ডা থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন
নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট ভারী ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাঁটা, দৌড়, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম - যা ভালো লাগে, সেটাই করুন। শক্তি, নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করুন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
আধুনিক জীবনে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, গভীর শ্বাস নেওয়ার মতো অভ্যাস কাজে আসতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন, সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা ডায়েরি লেখার মতো ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ (যেমন ফ্লু ও টিটেনাস) রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখুন।
একই সঙ্গে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে অনলাইন ও বাস্তব জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন। নিয়মিত বিরতি নিন।
সূত্র : Fytika Healthcare Products
মন্তব্য করুন