

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এমন অনেক অভ্যাস আছে, যেগুলো আমরা খুবই সাধারণ বলে মনে করি। কিন্তু এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সকালে বারবার কফি খাওয়া, নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার না করা, রাত জেগে কাজ করা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া কিংবা তাড়াহুড়ো করে দাঁত পরিষ্কার করা - এসব বিষয় আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না। কারণ এগুলোর প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না।
দাঁতের সমস্যা সাধারণত হঠাৎ করে শুরু হয় না। এগুলো ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনো ব্যথা বা অস্বস্তি ছাড়াই বাড়তে থাকে। তাই বেশিরভাগ মানুষ তখনই সচেতন হন, যখন সমস্যা অনেকটাই জটিল হয়ে যায়। অনেকের ধারণা দাঁতের ক্ষয় শুধু বেশি মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার কারণে হয়। বাস্তবে, জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাসই দাঁতের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ।
দাঁতের এনামেল ক্ষয়, মাড়ির রোগ, দাঁতের রং বদলে যাওয়া, এমনকি দাঁত বাঁকা হয়ে যাওয়া - এসব সমস্যার পেছনে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো বড় ভূমিকা রাখে। সময়মতো সচেতন হলে এবং নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিলে এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
তাই দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং পুরো জীবনযাত্রার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
আজ আমরা এমন কিছু সাধারণ অভ্যাসের বিষয়ে জানব, যেগুলো অজান্তেই আমাদের দাঁত নষ্ট করছে এবং কীভাবে সহজ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি নিজের দাঁত দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারেন।
অনেকেই মনে করেন দাঁতের সমস্যা হঠাৎ করে দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসের ফলেই ধীরে ধীরে এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়। যেহেতু শুরুতে ব্যথা বা অস্বস্তি হয় না, তাই এগুলো সহজেই উপেক্ষিত থেকে যায়।
এর ফলে হতে পারে :
- দাঁতের এনামেল ক্ষয়
- মাড়ি ফুলে যাওয়া বা লাল হওয়া
- দাঁতের রং বদলে যাওয়া
- কামড়ের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
- ধীরে ধীরে দাঁত ক্ষয় হওয়া
নিয়মিত দাঁতের পরীক্ষা করালে এই সমস্যাগুলো শুরুতেই ধরা পড়ে।
নিয়মিত কফি খাওয়ার ফলে দাঁতের ওপর অ্যাসিডিক প্রভাব পড়ে। এতে—
- দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়
- দাঁতে গভীর দাগ পড়ে
- সময়ের সাথে সংবেদনশীলতা বাড়ে
বিশেষ করে যারা কাজের চাপে বেশি কফি খান, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
যা করলে উপকার পাবেন :
- কফি খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলি করা
- অ্যাসিডিক পানীয়ের পরপরই ব্রাশ না করা
- সময় সময় পেশাদারভাবে দাঁত পরিষ্কার করানো
শুধু ব্রাশ করলে দাঁতের মাঝখানের অংশ পরিষ্কার হয় না। সেখানে খাবার জমে থেকে—
- মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
- মুখে দুর্গন্ধ
- মাড়ির সংক্রমণ
- দাঁতের চারপাশের হাড় দুর্বল হওয়া
ফ্লস কেন গুরুত্বপূর্ণ :
- দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার দূর করে
- মাড়ির প্রদাহ কমায়
- দাঁতকে দীর্ঘদিন শক্ত রাখতে সাহায্য করে
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মুখের লালার পরিমাণ কমে যায়। লালা দাঁতকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে। লালা কমে গেলে :
- মুখ শুকিয়ে যায়
- ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে
-ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়
রাত জেগে কাজ করা মানুষের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
দাঁতের ছোট সমস্যা দ্রুত বড় হয়ে যায়। তাই দাঁতের ডাক্তার দেখানো এড়িয়ে গেলে :
- ছোট ক্যাভিটি ধরা পড়ে না
- দাঁত ধীরে ধীরে বাঁকা হয়ে যেতে পারে
- কামড়ের সমস্যা বাড়ে
- মাড়ির রোগ জটিল হয়
নিয়মিত পরীক্ষা করালে সময়মতো চিকিৎসা সম্ভব হয়।
দাঁত ঘষা, মাড়ির রোগ বা দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে দাঁতের অবস্থান ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে। এর ফলে—
- দাঁত বাঁকা হয়ে যায়
- কামড়ের সমস্যা তৈরি হয়
- চোয়ালে ব্যথা
- কথা বলা ও চিবাতে অসুবিধা
বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এসব সমস্যার সহজ সমাধান রয়েছে।
ভালো খবর হলো—অনেক ক্ষেত্রেই এই ক্ষতি ঠিক করা যায়। সমস্যার মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা হতে পারে :
- পেশাদারভাবে দাঁত পরিষ্কার
- মাড়ির চিকিৎসা
- দাঁতের রঙের ফিলিং
- ব্রেস বা ক্লিয়ার অ্যালাইনার
- স্মাইল ডিজাইন
সময়মতো সচেতন হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসি বজায় রাখা সম্ভব।
সূত্র : Dr. Gowds Dental Hospital
মন্তব্য করুন