

শিশুর মানসিক বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা কোনো এককালীন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের উপর নির্ভর করে না। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা প্রতিদিনের ছোট ছোট কথাবার্তা, আচরণ এবং পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। প্রতিটি শিশু তার নিজস্ব গতিতে শেখে, নতুন দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের চারপাশের পৃথিবীকে অনুধাবন করে।
এই শেখার পথটি প্রায়ই ছোট সাফল্য এবং চ্যালেঞ্জের মিশ্রণে ভরা থাকে। শিশু যখন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে, এমনকি ব্যর্থ হয়, তখনই তারা সবচেয়ে বেশি শেখে। এই সময়ে শিশুর প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাদের ছোট সাফল্যগুলো প্রশংসা করা এবং তাদের উৎসাহিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর মনোবল ও আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে সেই পরিবেশে যেখানে তারা নিরাপদ বোধ করে, যেখানে তাদের ভুলগুলোকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা হয় এবং যেখানে নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা নেই। ছোট ছোট ইতিবাচক কথাবার্তা যেমন ‘তুমি চমৎকার কাজ করেছ’ বা ‘চেষ্টা করতে থাকো, তুমি পারবে’ শিশুদের মনে শক্তিশালী আত্মবিশ্বাসের বীজ বুনে। এ ধরনের প্রশংসা এবং উৎসাহ তাদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি করে।
শিশুরা প্রতিনিয়ত নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়, হোক তা স্কুলের ক্লাসরুমে, খেলার মাঠে, বা বাড়িতে। প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাদের চিন্তাভাবনা, মনোভাব এবং আত্মমুল্যায়নকে প্রভাবিত করে। তাই প্রতিদিনের কথাবার্তা শুধু শিশুকে ভালোভাবে বড় হতে সাহায্য করে না, বরং এটি তাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত করে।
শিশু যখন শেখে যে তার প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাকে সমর্থন করা হচ্ছে, তখন তারা আরও সাহসী হয়ে ওঠে, নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আগ্রহী হয় এবং নিজেদের সক্ষমতা বিশ্বাস করতে শুরু করে।
এখন দেখা যাক, শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়তে কোন ধররনর কথাবার্তা এবং আচরণ সবচেয়ে কার্যকর এবং দৈনন্দিন জীবনে এটি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়।
ইতিবাচক প্রশংসার প্রভাব
যখন শিশু নতুন কিছু শেখে বা চেষ্টা করে, তখন তার প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুকে উদ্বুদ্ধ করে আরও চেষ্টা করার জন্য এবং ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জনের পথ দেখায়। ভুল ধরিয়ে দেওয়ার চেয়ে প্রচেষ্টার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া শিশুকে আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করে।
নেতিবাচক কথার প্রভাব
শিশুর সামনে নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে শরীর বা ক্ষমতার প্রতি সমালোচনা শিশুর মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শিশুদের মনে অস্বস্তি বা ধীরগতি সৃষ্টি করতে পারে।
গল্প ও উদাহরণ দিয়ে শেখানো
গল্প ও উদাহরণ ব্যবহার করে শিশুকে শেখানো একটি কার্যকরী উপায়। এটি শিশুকে অনুপ্রেরণা দেয় এবং শেখার প্রতি উৎসাহ বাড়ায়। যখন শিশু দেখে যে কোনো বাধা সত্ত্বেও কাজ করা সম্ভব, তখন তারা নিজেদের সক্ষমতা বিশ্বাস করতে শেখে।
নিজের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কল্পনার প্রতি উৎসাহ
শিশুর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও স্বপ্ন অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেওয়াও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। যখন শিশুকে সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য পেশার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়, তখন তারা নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে শেখে।
শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ার জন্য ঘরের পরিবেশ ও প্রতিদিনের কথার গুরুত্ব অপরিসীম। ছোট ছোট প্রচেষ্টার প্রশংসা, নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলা এবং ইতিবাচক উদাহরণ প্রদর্শন শিশুর মানসিক বিকাশ ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে তখন, যখন তারা নিজেদের সক্ষমতা বিশ্বাস করতে শেখে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে উৎসাহিত হয়।
সূত্র : Times of India
মন্তব্য করুন