স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় পরিবার পরিকল্পনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন দৈনিক কালবেলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রীতা ভৌমিক ও নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান। রীতা ভৌমিক আট বার এবং মাহমুদুল হাসান দ্বিতীয়বারের মত এ পুরস্কার পেলেন।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শ্রেষ্ঠ ১০ জন প্রতিবেদককে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।
বুধবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিক মেডিকেল কলেজের (বিএসএমএমইউ) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন মধুমতি হলে রীতা ভৌমিক ও মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের হাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনার ভাবনাটি প্রথম জনসমক্ষে তুলে ধরে দিক নির্দেশনা দেন। তিনি কেবল পরিবার পরিকল্পনার বিষয়েই শুধু নয়, চিকিৎসক নার্সদেরও তিনি মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সেবা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। যার সুফল এখন আমরা পাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা সব কিছুতে একটি অনন্য উচ্চতায় তিনি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
যারা পরিবার পরিকল্পনা মিডিয়া এওয়ার্ড পেয়েছেন তারা হলেন- দৈনিক কালবেলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রীতা ভৌমিক ও নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান, দৈনিক সাতমাথার বার্তা সম্পাদক এফ শাহজাহান, দৈনিক সমকালের নিজস্ব প্রতিবেদক সাজিদা ইসলাম পারুল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বরুন কুমার দাশ, দ্য ওশান টাইমসের নিজস্ব প্রতিবেদক কেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী, এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি মো. শারফুল আলম, ডিবিসির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তাহসিনা জেসি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফারহানা মির্জা এবং বাংলাদেশ বেতারের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থা সংবাদদাতা আসিফ ইকবাল।
‘শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা কর্মী’ হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন বরিশাল সদরের জাগুয়া ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী মেরিনা আক্তার, পাবনার রুপপুর ইউনিয়নের ইয়াসমিন খানম, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নরসিংদীর রায়পুরার রেনুকা আফরোজ, খুলনা ঝিনাইদহের মো. মহাসীন আলী, বরগুনার আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অনুজ রায়। ‘শ্রেষ্ঠ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন মাদারীপুরের শিবচরের কাদিরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কুষ্টিয়া আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদের গোপালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে যাদুকরী কোনো সমাধান নেই
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) সাহান আরা বানু।
তিনি বলেন, আমাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী ও কন্যাশিশু। জাতীয় উন্নয়নে এদের অবদানকে তুলে ধরতে হলে সম্ভাবনার দ্বারকে অবারিত রাখতে হবে। সারা বিশ্বের মতো এই দেশে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক টিটো মিঞা, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাকসুরা নূর এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্রিস্টিন ব্লখুসি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি, সভাপতি, বিশেষ অতিথি, সম্মানিত অতিথি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
শোকাবহ আগস্ট মাস উপলক্ষ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেখ মুজিব শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত শোকাবহ ১৫ই আগস্ট এর প্রামাণ্য চিত্র প্রদশিত হয়।
মন্তব্য করুন