সরকারি বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে বেসরকারি বিমান সংস্থার অসম প্রতিযোগিতা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন চার্জ এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে গত ত্রিশ বছরে আট বেসরকারি যাত্রীবাহি এবং এক ডজনেরও বেশি কার্গো এয়ারলাইন্স দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধান না হলে বর্তমানে চালুকৃত বেসরকারি সব এয়ারলাইন্স অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (এওএবি)।
আজ বুধবার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এওএবি মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান এ তথ্য জানান বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) জানিয়েছে যে, চলতি বছরের পহেলা মে পর্যন্ত চারটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কাছে বিভিন্ন অ্যারোনটিক্যাল এবং নন-অ্যারোনটিক্যাল ফি বাবদ তারা ১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা পাবে।
চারটি এয়ারলাইন্স হল-
বর্তমানে বিলুপ্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ার। তবে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ও এয়ার এস্ট্রার কাছে তাদের কোন পাওনা নেই।
মফিজুর রহমান লিখিত বক্তব্যে সংসদীয় কমিটিকে বলেন, বিমানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার কারণে বেসরকারি এয়ারলাইন্স অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন নিরবচ্ছিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহ বিমানের ভর্তুকিযুক্ত অপারেটিং নীতির কারণে বেসরকারি খাতের এয়ারলাইনগুলি মোটেও টিকে থাকতে পারে না। এই অসম প্রতিযোগিতার একটি সমাধান জরুরিভাবে প্রয়োজন।
মফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমান প্রকৃত ভাড়ার চেয়ে কম দামে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করে আসছে। ফলে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোও কম ভাড়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই বিপুল সরকারি ভর্তুকি দিয়ে বিমান টিকে থাকলেও বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো কোনোভাবেই টিকবে না। এই ক্ষেত্রে প্রকৃত বিমান ভাড়া নির্ধারণ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটা নিশ্চিত যে বিদ্যমান বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে প্রাইভেট বিমান সংস্থার নিকট থেকে বেবিচকের পাওনা টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রাইভেট বিমান সংস্থাকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করে কমিটি।
কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, তানভীর ইমাম, আনোয়ার হোসেন খান ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার।
মন্তব্য করুন