নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু বিদেশি রাষ্ট্র অসংলগ্ন কথা বলছে। ভিসানীতি পরিবর্তন করছে। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এখানে কারও হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আর যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল তথ্য দিয়ে যারা সরকারের বিরুদ্ধে বলাচ্ছে আগামী দিনে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩–২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। ওই সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে দেখাতে হবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকর প্রতিস্থাপন। তাদের দাঁত আছে, তারা ইচ্ছা করলে কামড় দিতে পারে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু বিদেশি রাষ্ট্র অসংলগ্ন কথা বলছে। ভিসানীতি পরিবর্তন করছে। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এখানে কারও হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
বিদেশি দেশগুলো এটা করা থেকে বিরত থাকবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে তাদের দেশে ভালো কোনো কিছু থাকলে নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিতে পারে। তারা কাকে ভিসা দেবে আর কাকে নিষেধাজ্ঞা দেবে এসব ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। করোনাসহ নানা চ্যালেঞ্জ সরকার সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় সরকার জানে। আগামীতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
ফারুক খান বলেন, বিএনপিসহ যারা বাজেটের সমালোচনা করছেন তাদের এত বড় বাজেট ধারণ করার সক্ষমতা নেই। বাজেটকে না বোঝে তারা সমালোচনা করছেন। তাদের এই সমালোচনাকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিএনপির সমালোচনা করে ফারুক খান আরও বলেন, তারা ২০১৪ সালের মতো জ্বালাও-পোড়াও, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হত্যা করে ভোট বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে, কিন্তু এটা সম্ভব হবে না। তারা কোনোভাবেই নির্বাচন বন্ধ করতে পারবে না। জনগণকে ভোট থেকে বিরত রাখতে পারবে না। তলে তলে বিএনপিও ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, গণসংযোগ করছে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, গুম-খুন নিয়ে বিএনপি বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। কিন্তু এ দেশে তারাই গুম-খুন শুরু করে। হাওয়া ভবনের দুর্নীতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিএনপি হাওয়া ভবনের মাধ্যমে দুর্নীতির পাহাড় তৈরি করে। হাওয়া ভবনের গডফাদার এখন লন্ডনে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। ভরাডুবির ভয়ে বিএনপি এখন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তারা হতাশ। সেজন্য তারা জেনে শুনে বুঝে ভোট বানচালের জন্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল তথ্য দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বলাচ্ছে। আগামী দিনে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জনগণ সেটার জবাব দেবে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, হাইকমিশনারদের অতিরিক্ত প্রটোকল সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির প্রতিক্রিয়ায় সরকার এটি করেছে। সরকারের কোনো রিঅ্যাকশন দেখানোর প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে দেখাতে হবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকর প্রতিস্থাপন। তাদের দাঁত আছে, কামড় দিতে পারে। সরকারও ইসিকে সহায়তা করে। এটা হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আস্তে আস্তে কমে আসবে।
শামীম হায়দার বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা দিয়েছেন তা মূলত রেকর্ডেড ভার্সন। কণ্ঠটাও অর্থমন্ত্রীর না। তিনি নিজে দুই পাতা পড়েছেন।
বাজেটে বিশাল ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে। সব ঋণ সরকার নিলে ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ কীভাবে ঋণ নেবে। ব্যাংক কোথায় টাকা পাবে? তখন সরকার টাকা ছাপাবে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
তিনি বলেন, সামনের দিনে মানুষ ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে পকেট ভর্তি বাজার করে আনতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কীভাবে কমাবে তার কোনো নির্দেশনা বাজেটে নেই।
মন্তব্য করুন