ডিবি পরিচয়ে অপহরণকারী ডাকাত দলের ১৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, ডিবি জ্যাকেট, হাতকড়া ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ১০ জুন গাজীরপুরের কালিয়াকৈর ও ঢাকার ঢাকা মহানগরীর ডেমরা থানাপাড়া, ডগাইর ফার্মের মোড় এলাকা থেকে জড়িত অপহরণ ও ছিনতাইকারী দলের ৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে খিলক্ষেত থানার ৩০০ ফিটের অস্ট্রেলিয়ান স্কুলের সামনে থেকে আরও ৯ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি জানান, বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন মো. শহিদুল ইসলাম মাঝি ওরফে শহীদ মাঝি (৫৩), শ্রী সাগর চন্দ্র মালি (৩০), শাহ আলম হাওলাদার (৩৫), মো. কামরুল ইসলাম ওরফে রমিজ তালুকদার (৩০), মো. মাকসুদুল মোমিন ওরফে শামীম (৪৩), মো. হাসান (৩৮), মো. নুরুল ইসলাম (৩০), মো. খলিলুর রহমান ওরফে মাগার (৪৬), মো. আকরাম হোসেন (৩৮), মো. দ্বীন ইসলাম ওরফে কাউছার আহম্মেদ (৩৫), মো. ইলিয়াছ আহম্মেদ ওরফে নিরব (৩২), মো. ফরহাদ আলী (৬৬), মো. রিয়াজ হোসেন হাওলাদার ওরফে রিয়াজুল (৩১), মো. শফিকুল ইসলাম লিটন (৫০), মো. সেরাজুল ইসলাম (৪৪) এবং মো. জহিরুল ইসলাম পিন্টু (৩৮)।
তিনি আরও জানান, তাদের কাছ থেকে ৩০টি মোবাইল ফোন, একটি মাইক্রোবাস, ডিবি জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ ও ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, গত ১৭ জুন আবদুল আজিজ নামে এক ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ১৩ লাখ টাকা ধার নেয়। পুরানা পল্টনের মোড় থেকে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলযোগে তার খিলক্ষেতের বাসার উদ্দেশে রওনা হয়।
রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার জিয়া কলোনী এমপি চেকপোস্টের সামনে পৌঁছামাত্রই অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন ব্যক্তি মাইক্রোবাসের মাধ্যমে তার গতিরোধ করে। আসামিরা ডিবির পোশাক পরা অবস্থায় জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে উঠিয়ে হাত, পা ও চোখ বেঁধে এলোপাতাড়ি মারপিট করে।
এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা ১৩ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। তার বিকাশে এজেন্ট নম্বর পিন কোড জেনে ৩৭ হাজার টাকাও তুলে নিয়ে নেয় তারা। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা এলাকায় ফেলে যায়।
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, এই ঘটনার পরে ছায়াতদন্তে নামে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ ও ছিনতাকারী দলটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পারস্পরিক যোগসাজশে মাইক্রোবাস যোগে মানি এক্সচেঞ্জ ও ব্যাংক এলাকায় বিশেষত মতিঝিল, পল্টন, ধানমন্ডি ও গুলশান থেকে কোনো ব্যক্তি টাকা নিয়ে বের হওয়ার সময় তাদের টার্গেটকে ফলো করে।
২ বা ৩ জন মোটরসাইকেল নিয়ে টার্গেটের পিছু নেয়। পথিমধ্যে সুবিধাজনক স্থানে মাইক্রোবাস নিয়ে তাদের অন্য টিম প্রস্তুত থাকে। মোটরসাইকেল টিমের তথ্যমতে সুবিধাজনক জায়গায় মাইক্রোবাস এসে টার্গেটকে গতিরোধ করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয়। তারপর ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে নির্জন স্থানে ফেলে যায়।
ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন