মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কমানো সন্তোষজনক : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।  ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের হার ৩৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা রপ্তানি খাতের জন্য একটি ‘সন্তোষজনক অবস্থা’ হিসেবে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (০১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা জয়-পরাজয়ের কোনো বিষয় না। যে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিযোগিতায় আমরা তুলনামূলকভাবে একটা সন্তোষজনক অবস্থানে আছি। আমরা ২০ ভাগ, পাকিস্তান ১৯ ভাগ, ভিয়েতনামে ২০ ভাগ, ভারতে ২৫ ভাগ। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, সার্বিকভাবে ট্যারিফের ফিগারটা সন্তোষজনক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে। ট্যারিফ বিষয়ে আমাদের প্রতিযোগীদের সাথে যেটা হয়েছে সেটা ঠিকই আছে। এটা সন্তোষজনক।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নতুন এই হারের পেছনে কী আছে সে প্রসঙ্গটি টেনে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রো নেগোসিয়েশনের সার্বিক বিষয়টা তো আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু ট্যারিফের বিষয়টা জানি। সার্বিক বিষয়টা জানার পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব। এর (ট্যারিফ) বিপরীতে আর কী দিতে হয়েছে সেটা না জানা পর্যন্ত তো এর ইমপেক্টটা কী হবে সেটা আমরা বলতে পারছি না।

এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, নেগোসিয়েশনের পেছনের যে বিষয়গুলো এটা তো একটা প্যাকেজ। এখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু ট্যারিফের কত পারসেন্ট কমানো হলো সেটা তো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনেক আলাপ-আলোচনা, আমেরিকানরা কী পাঠাতে পারবে? বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কী দাবি-দাওয়া ছিল- এ বিষয়গুলো প্রকাশ হলে আমরা বুঝতে পারব।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন, এখন কী তারা স্বস্তির মধ্যে এসেছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো বলছি, আপাতত ২০ ভাগ ট্যারিফ নির্ধারণ অন্তত এই মুহূর্তে আমাদের রপ্তানি বাজার বাধাগ্রস্ত করবে না। সুতরাং এই মুহূর্তে এটা সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত। তবে এটার সাথে জড়িত অনেক যে বিষয়গুলো আছে সেটা তো আমাদের জানা নেই। সেগুলো আমরা যখন জানব তখন মন্তব্য করতে পারব।

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার একটা কথা বলেছেন এটার সাথে ট্যারিফের কোনো সম্পর্কের ইংগিত করছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে আমীর খসরু বলেন, না, কিছু তো করতেই হবে। কারণ আমেরিকানদের পুরো ট্যারিফের বিষয়টা হচ্ছে, আমেরিকানদের পণ্য রপ্তানির স্বার্থে। সেজন্য তো এই অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে বাংলাদেশ কতটুকু এবজরভ করতে পারবে, আমাদের অর্থনীতি কতটুকু এবজরভ করতে পারবে, আমাদের ব্যবসায়ীরা কতটুকু এভজরভ করতে পারবে, আমাদের ইকোনমি কতটুকু এবজরভ করতে পারবে সেই বিষয়গুলো আলোচনার বিষয়। আমরা বিস্তারিত জানলে সেটার ওপর মন্তব্য করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু একটা ট্যারিফের বিষয় নয়। এর পেছনের আরও যে বিষয়গুলো জড়িত আছে সেগুলো সম্মিলিতভাবে আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে। সে বিবেচনাটা গুরুত্বপূর্ণ আগামী দিনের জন্য। বাট আমাদের রপ্তানিকারকরা আপাতত স্বস্তি পেয়েছে বলে আমি মনে করি। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো বিষয়টি খোলাসা করা উচিত।

আমীর খসরু বলেন, বাণিজ্য শুধু আমাদের আমেরিকার সঙ্গে নয়। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়। সে জায়গাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সম্মিলিতভাবে আমরা কোথায় দাঁড়াচ্ছি সেটা বুঝতে হবে, পর্যালোচনা করতে হবে। একইসঙ্গে রপ্তানিটা আমাদের আরও বেশি ডাইভারসিফাই করতে হবে। আমাদের শুধু আমেরিকা নির্ভরশীল অর্থনীতি হতে পারে না। সেটাই হচ্ছে আমাদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, সেজন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং আমাদের যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইউজ অব ড্রিম বিজনেস যেটা অত্যন্ত নিচে এখন সেটাকে এই ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে, রিভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে। বড় ধরনের পরিবর্তন আমাদের আনতে হবে। আমরা সে দিকেই যাব আগামী দিনে।

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউক্রেনে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ৪ ভারতীয় নাবিক নিহত

রক্ত, আতঙ্ক আর দীর্ঘশ্বাসে লেখা ২১ জুলাই: যে দিন সাভারের আকাশ ভারী হয়েছিল কান্নায়

সংশোধন নয়, সংস্কারের মধ্যে দিয়ে নতুন সংবিধানের কথা বলেছিলাম আমরা : আখতার হোসেন 

নিবন্ধন পেল বাংলা পোস্ট

স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণ জানাল তিতাস

ডেঙ্গুর আর্থিক ক্ষতি বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা: ডা. মোসলেহ উদ্দীন

বাজার থেকে আরও ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্যোগ

ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের ৫ কারণ 

১০

কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১১

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কৌশল বুঝে ফেলেছে ইরান: গালিবাফ

১২

অস্ত্রোপচারে ড্রিলের ফলা রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

১৩

ভারতে প্রথম ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন

১৪

উগ্রবাদে জড়িতের অভিযোগে গ্রেপ্তার মামুন রিমান্ডে

১৫

ভূয়াপুর-তারাকান্দি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

১৬

নেত্রকোনায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, সড়কে ধস

১৭

অস্ট্রেলিয়ায় আহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় প্রবাসীদের মানবিক উদ্যোগ

১৮

এফওপিএল নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্তের আহ্বান, নীতি পর্যালোচনায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর

১৯

বসছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম / থার্ড টার্মিনাল চালাতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাপানের সঙ্গে চুক্তি

২০
X