

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের জন্য একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দলের নির্বাচন মনিটরিং সেলের পক্ষ থেকে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, আসন সমঝোতার ভিত্তিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যৌথভাবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে অনুযায়ী বিএনপির সঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি আসনে জমিয়তের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং বাকি আসনগুলোতেও জমিয়ত দলীয় কোনো প্রার্থী দেবে না।
সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় উভয় দল জোট প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক এই সমঝোতার ভিত্তিতে উভয় দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। নির্বাচনী তৎপরতা পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করতে হবে এবং জাতীয় ও দলীয় কল্যাণে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই যেন আইন লঙ্ঘন না হয়— সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিপক্ষের উসকানিমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের জবাবে ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজের হাতে না নিয়ে প্রয়োজনে প্রশাসনের সহায়তা নিতে হবে।
জেলা পর্যায়ে জমিয়তের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের সমন্বয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে করণীয় নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী কার্যক্রমের পাশাপাশি হিকমতের সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে জমিয়তের কর্মকাণ্ড সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়। আদর্শ, কৌশল ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে মিত্র পক্ষের সঙ্গে যাবতীয় বিষয় মোকাবিলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জেলা আমেলার মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলা শাখাকে সাংগঠনিকভাবে প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আসনে নির্বাচনী তৎপরতায় জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতাদের সরাসরি মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিটি কমিটিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জমিয়তের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। জেলা পর্যায়ের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে জেলা জমিয়তের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।
নির্বাচনী কর্মতৎপরতায় ইসলামের চারিত্রিক আদর্শ ও দলের নৈতিক স্বকীয়তা কঠোরভাবে বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, দল ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ আদায় করতে না পারে— সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত মানের কর্মতৎপরতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা শাখায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে যেসব আসনে জমিয়তের দলীয় প্রার্থী রয়েছে, সেসব আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ প্রয়োজনে নির্বাচন মনিটরিং সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারকাজে জমিয়তের পতাকা ও মনোগ্রাম ব্যবহারের প্রতিও সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনাপত্রে নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী ও সদস্য সচিব বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার স্বাক্ষর রয়েছে।
মন্তব্য করুন