

১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহজাহানপুরস্থ একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে মজলিসে শূরা সদস্যরা ১১ দলীয় সমঝোতা সংক্রান্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
অধিবেশনে নেতারা বলেন, জাতির প্রত্যাশা পূরণে ১১ দলীয় ঐক্য অটুট রাখা অপরিহার্য। এই ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থেই ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন। ইনসাফ ও সম্মানজনক সমঝোতা ছাড়া ঐক্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।
খেলাফত মজলিস নেতারা আরও বলেন, ইসলামি শক্তির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা খেলাফত মজলিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এক আসনে একটি ইসলামি দলের প্রার্থী দেওয়ার যে নির্বাচনী সমঝোতা বা ‘ওয়ান বক্স পলিসি’, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
নেতারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তির প্রথম ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গড়ে তুলেছিল খেলাফত মজলিস। ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের সাধারণ পরিষদের দ্বাদশ অধিবেশনে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সব পক্ষের নেতারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।
খেলাফত মজলিস ইতোমধ্যে ইসলামি সমমনা ৫ দল, ৮ দল এবং সর্বশেষ ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়। তবে দুঃখজনকভাবে ১১ দলীয় শরিকদের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনায় খেলাফত মজলিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ও অঞ্চল নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়ছে, যা শুধু খেলাফত মজলিসের জন্য নয়, পুরো জোটের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নেতারা জানান, সারা দেশে খেলাফত মজলিসের ৭৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ৭২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে।
তারপরও ইসলাম, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের স্বার্থে খেলাফত মজলিস চলমান ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাবে বলে জানানো হয়। তবে এই অগ্রযাত্রা হবে ইনসাফ ও সম্মানজনক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে। সম্ভাবনাময় ও বিজয়ের বাস্তব সুযোগ রয়েছে— এমন আসনগুলোতে সম্মানজনক সমঝোতার দাবি জানায় খেলাফত মজলিস। একইসঙ্গে প্রতিটি বিভাগে ন্যূনতম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার স্বার্থে ইনসাফভিত্তিক আসন সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, ডা. এ এ তাওসিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মাওলানা সামছুজ্জামান চৌধুরী, মাস্টার আবদুল মজিদ, অধ্যাপক মাওলানা এ এস এম খুরশীদ আলম, অধ্যাপক একেএম মাহবুব আলমসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা।
মন্তব্য করুন